ঝটিকা সফরে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৮ এপ্রিল: ঝটিকা সফরে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথম বাঁকুড়া সফরে এলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। একদিনের নোটিসে রাজ্যপালের জেলা সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন। তবে রাজ্যপালের আপ্যায়নে যাতে কোনও ত্রুটি না হয় সে ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন জেলা প্রশাসন থেকে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজ্যপালের ঝটিকা সফর নিয়ে কৌতুহল তুঙ্গে ছিল জেলা পুলিশ প্রশাসন ও জনমানসে।

আজ বেলা ১১ টা ১৫ মিনিট নাগাদ বাঁকুড়া শহর লাগোয়া কারকডাঙা মাঠের হ্যলিপ্যাডে রাজ্যপালের হ্যালিকপ্টার অবতরণ করে। সেখানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অফ অনার জানানো হয়। এখান থেকে তাঁর কনভয় পৌঁছায় বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে এসে তিনি সমস্ত কিছু ঘুরে দেখেন। বেরিয়ে যাওয়ার মুখে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, উপাচার্য সকলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, পঠনপাঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানের পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি যোগ্য লোকেদের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। তাঁকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে সেই নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত। আমার এই সফর ছিল উৎসাহ মূলক ট্যুর। এনিয়ে কথা হোক বলে তিনি রাজনৈতিক প্রশ্নগুলি এড়িয়ে যান।

শুভেন্দু অধিকারী লোকায়োক্ত নিয়ে যে দাবি করেছেন, সে প্রশ্নেরও তিনি কোনও জবাব দেননি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমসিপি সমর্থকরা রাজ্যপালকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন। তারা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য দেখতে চাই। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতির বিরোধিতা করেও স্লোগান তোলে টিএমসিপি। মুখ্যমন্ত্রীর আচার্য করা নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার পাঠানো ফাইলে তিনি কেন সাক্ষর করছেন না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক ভাবে, সঠিক সময়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাও যুক্ত। এনিয়ে সবিস্তারে আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় তিনিও অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।

এরপর তিনি বাঁকুড়া শহরের কেন্দুয়াডিহির একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে যান। বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে বিকাশ সোসাইটি নামে একটি সংস্থা। তিনি এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী সকলেই ঈশ্বরের দূত। এখানে সকলেই ভালো কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে জেলা প্রশাসনের দেওয়া হুইলচেয়ার তুলে দেন পড়ুয়াদের। দুপুরেই তিনি অন্ডাল বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *