পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৬ মার্চ: কড়া প্রহরা, টুকলিতে বাধা। রাতের অন্ধকারে ভাঙ্গচুর সরকারি স্কুল। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাটের বঙ্গি এলাকায়। ভেঙ্গে তছনছ করা হয়েছে বালুরঘাট জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশকিছু ঘর। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভূগোলের প্রাকটিক্যাল ল্যাবের সরঞ্জাম ও গ্রন্থাগার। ঘরের ফ্যানগুলোকেও বেঁকিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতিরা। ঘটনা জানিয়ে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ রাতে এমন ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা বালুরঘাট শহরে।
জানা যায়, এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষার সিট পড়েছিল জয়চাঁদ লাল প্রগতি বিদ্যাচক্র স্কুলে। যেখানেই অত্যন্ত কড়া প্রহরার মধ্যে দিয়ে সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করছিল ওই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা। কড়া প্রহরা ও টুকলিতে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দু’একটি ছাত্রের সাথে বচসাও হয় ওই স্কুলের শিক্ষকদের বলে সুত্রের খবর। শুধু তাই নয়, ছাত্রদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে শিক্ষকদের, বলেও খবর। আর যা নিয়েই বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে জানিয়েছিলেন জিএলপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। গতকাল রাতে স্কুলের ভূগোলের প্রাকটিক্যাল ক্লাস রুম কার্যত ধ্বংসস্তূপ করে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বালুরঘাট থানাতেও। লিখিতভাবে জানানো হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও। এদিন এই ঘটনা সামনে আসায় রীতিমতো হতবাক হয়েছেন দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

জেএলপি বিদ্যাচক্রের প্রধান শিক্ষক পুলক বসাক বলেন, বেশ কয়েক হাজার টাকার স্কুলের সম্পত্তি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে রাতের অন্ধকারে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় টুকলি রোধে কড়া প্রহরা দেওয়াতে দু’চারটি ঘটনাও ঘটেছিল। কিন্তু এই ঘটনা কারা করেছে তা তদন্ত করে বের করতেই তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহা বলেন, এমন বিষয় তার জানা নেই। বিষয়টি জানবার পরেই এব্যাপারে মন্তব্য করতে পারবেন।

