(গৌরীপুর কুষ্ঠ গবেষণা ও প্ৰশিক্ষণ কেন্দ্ৰের নিৰ্দেশক ডাঃ ভৈরব মন্ডল)
সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৬ সেপ্টেম্বর: কুষ্ঠরোগ নিৰ্মূল করতে নিরন্তর প্ৰচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষেত্ৰীয় কুষ্ঠ প্ৰশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্ৰ। বাঁকুড়া শহরের উপকন্ঠে গৌরীপুরে অবস্থিত এই প্ৰশিক্ষণ কেন্দ্ৰের নিৰ্দেশক (ডিরেক্টর) ডাঃ ভৈরব মন্ডল জানান, দেশ থেকে কুষ্ঠরোগ নিৰ্মূল করতে ভারত সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্ৰহণ করেছেন। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্ৰা ধাৰ্য করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্ৰহণ করা হয়েছে।
কুষ্ঠরোগ নিৰ্মূল করার লক্ষ্যে কুষ্ঠরোগ সম্বন্ধ্যে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কৰ্মীদের উপযুক্ত প্ৰশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কেন্দ্ৰীয় সরকার ১৯৮৪ সালে গৌরীপুরে প্ৰশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্ৰ স্থাপন করে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও পূৰ্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিও এখান থেকে প্ৰশিক্ষণের সুযোগ লাভ করে। ১৯৮৩ সালে ভারত সরকার কুষ্ঠরোগকে নিয়ন্ত্ৰন করতে প্ৰতি হাজার জনে একজন আক্ৰান্তের লক্ষমাত্ৰা ধাৰ্য করে। ২০০০ সালে এই লক্ষ্যমাত্ৰা পূৰ্ণ না হলেও ২০০৫ সালে এই লক্ষ্যমাত্ৰা অৰ্জনে সক্ষম হয়। কিন্তু কোনও রাজ্যই কুষ্ঠ শূন্য হতে পারেনি। ভারত সরকার দেশকে পুরোপুরি কুষ্ঠ শূন্য করতে ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্ৰা হিসাবে ধাৰ্য করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উপযুক্ত প্ৰশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সহ সমস্ত কৰ্মীদের প্ৰশিক্ষিত করে তোলার জন্য ডাঃ ভৈরব মন্ডলের উপর দায়িত্ব অৰ্পণ করা হয়েছে।
কুষ্ঠ কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। সময়মত সুচিকিৎসায় এই রোগ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু সমাজে এই রোগ সম্বন্ধ্যে মানুষের অজ্ঞতা এবং ভুল ধারণার জন্য কুষ্ঠ সম্বন্ধ্য জনমানসে ভীতি আজও রয়ে গেছে। কুষ্ঠ রোগ নিৰ্মূল এবং এই রোগকে সাধারণ ব্যাধি হিসাবে প্ৰতিষ্ঠিত করতে গৌরীপুর কুষ্ঠ প্ৰশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্ৰের নিৰ্দেশক হিসাবে স্বাস্থ্য কৰ্মীদের প্ৰশিক্ষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও কুষ্ঠরোগ সম্বন্ধ্যে সঠিক আলোকপাত করতে ছড়া, গান, সভাসমিতিতে আলোচনা ও প্ৰবন্ধ লেখার প্ৰচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভৈরব বাবু। কুষ্ঠ রেগ নিৰ্মূল করার ব্ৰত তাঁকে আষ্টেপিষ্টে যেন জড়িয়ে ধরেছে।
গান গেয়ে, আলোচনা সভায় কুষ্ঠরোগ সম্বন্ধ্যে আলোকপাত করেই তিনি ক্ষান্ত নন, সাধারণ মানুষের জন্য, ক্ষুদে পড়ুয়াদের জন্য ছড়ার বইও প্ৰকাশ করেছেন। “আজগুবে দাদু” নামাঙ্কিত ছড়া ও কবিতার বই ২০২০ সালের ১ লা জানুয়ারি শ্ৰীরামকৃষ্ণ মিশনের পূজ্যপাদ মহারাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্ৰকাশ করেন। কুষ্ঠরোগ নিৰ্মূল করতে তার এই প্ৰচেষ্টার স্বীকৃতি স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্ৰযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে গোপালচন্দ্ৰ ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

