রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুর প্রতিবাদে সরকারি সম্মান ফেরানো যাবে না, সরকারকে নয়া নিয়মের প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির

আমাদের ভারত, ২৫ জুলাই: সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বা অন্য কোনো আর্থসামাজিক ইস্যুর প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে অনেক সময় দেখা গেছে পুরস্কার ফেরত দেওয়ার রীতি। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে নিজেদের সরকারি সম্মান বা পুরস্কার ফেরত দেন বিশিষ্টজনেরা। এবার আর এভাবে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ পাবেন না পুরস্কার প্রাপকরা। সংসদীয় কমিটির একটি সুপারিশ থেকে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সংসদের পরিবহন, পর্যটন এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত কমিটি একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এভাবে সম্মান ফেরানোর প্রবণতা বন্ধ করতে আগে থেকেই পুরস্কার প্রাপকদের সঙ্গে চুক্তি করে নেওয়া উচিত। কমিটির আবেদন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা করুক যেখানে পুরস্কার পাওয়ার আগেই প্রাপককে জানিয়ে দেবেন তিনি কোনো অবস্থাতেই সেই পুরস্কার ফেরাতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে একটি লিখিত শপথপত্র পুরস্কার প্রাপককে পূরণ করতে হবে। পুরস্কার নেওয়ার আগেই সরকারকে লিখিত আকারে জানিয়ে দিতে হবে তিনি কোনো অবস্থাতেই পুরস্কার বা সম্মান প্রত্যাখ্যান করবেন না।

সংসদীয় কমিটি মনে করছে পুরস্কার ফেরত দেওয়ার জন্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে যে সংস্থা সম্মান দিচ্ছে বা যে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির আবেদন, কাউকে সরকার বা কোনো সংস্থা সম্মান দেয় নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য। কিন্তু ওই ব্যক্তি যদি রাজনৈতিক কারণে এই সম্মান ফেরত দেয় তাহলে সেটাও সম্মান ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকারক।

একইসঙ্গে কমিটি সুপারিশ করেছে যদি কেউ সরকারি সম্মান পাওয়ার পর ফেরত দেন তাহলে শাস্তি হিসেবে তার নাম যেন আর কোনো সরকারি পুরস্কারের ক্ষেত্রে সুপারিশ না করা হয় সেটা দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *