অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১২ জুলাই: ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর গুপ্ত বৃন্দাবন ঠাকুরবাড়িতে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। সেইমতো ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে রথযাত্রা একটি বড় উৎসব হিসাবে পরিচিত। প্রতি বছর শ্রী পাট গোপীবল্লভপুরের গুপ্ত বৃন্দাবনে মহা সমারোহে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব।

রথযাত্রা উপলক্ষ্যে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি ওড়িশা, ঝাড়খন্ড এবং বাংলার বিস্তির্ণ এলাকার গুপ্ত বৃন্দাবনের ভক্তরা শ্রী পাট গোপীবল্লভপুরে হাজির হন। এটাই গোপীবল্লভপুরের চারশো বছরের প্রাচীন রীতি। কিন্তু এবছর রথ যাত্রার তাল কেটেছে করোনা মহামারি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শ্রী পাট গোপীবল্লভপুরের রথ যাত্রা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়মরক্ষার রথ উৎসব পালন করার। কোনও ভক্ত সমাগম ছাড়াই শুধু মাত্র উৎসব কমিটির জনা তিরিশেক ভক্তের উপস্থিতিতে হবে গোপীবল্লভপুরের গুপ্ত বৃন্দাবনের রথ।

এই পরিস্থিতিতে উৎসবে অংশ নিতে পারবে না বুঝে এলাকার কচিকাঁচারা নিজেদের প্রচেষ্টায় বানিয়ে ফেলল আস্ত একটি রথ। ছোট হলেও রথটি সৌন্দর্যময় কারুকার্যে ভর্তি। রথে রয়েছেন জগন্নাথ দেব, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা। গোপীবল্লভপুরের বাজারে সাই পাড়া এলাকার ক্ষুদেদের এই রথের যাত্রা সীমাবদ্ধ নিজেদের পাড়ার মধ্যে। কচিকাঁচারা কয়েকজন মিলে আনন্দের সাথে টানল রথের দড়ি। জানাগেছে, রথ এলাকার একটি বাড়িতে তৈরি করা অস্থায়ী মাসির বাড়ি পর্যন্ত যাবে এবং কোনও ব্রাহ্মণ পুরোহিত ছাড়াই সাতদিন মাসির বাড়িতে ক্ষুদেদের হাতে পুজিত হবেন জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা।

