সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ জুলাই: এক ট্রাক চালককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার পুলিশ শিমুলিয়া এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ট্রাক চালককে উদ্ধার করে। হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম গৌড় দে (৫২)। পেশায় ট্রাক চালাক। বনগাঁর চামড়াকুটি এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় পুলিশ ৩ পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় বনগাঁ এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বাংলাদেশে পণ্য খালাস করে মঙ্গলবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের আগে বাংলাদেশের একজন সোনা পাচারকারী তার হাতে ৪ টি সোনার বিস্কুট দিয়ে ভারতে নিয়ে আসার জন্য বলে। এপারে আসার আগেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জওয়ানরা তার কাছ থেকে ওই সোনার বিস্কুটগুলি নিয়ে নেয়। এরপর তাঁদের হাতে পায়ে ধরে গৌড় ট্রাক নিয়ে ভারতে ঢুকে পরে। এমনই দাবি গৌড়ের পরিবারেরও। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিল, পাচারকারীরা বিস্কুট দেওয়ার সময় তার বাড়ির লোকেদের ফোন করে জানিয়েছিল, যদিও সেকথা বিশ্বাস করতে রাজি হয়নি এপারের সোনা পাচারকারীরা। বুধবার সকালে বাড়িতে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই কারবারী তার বাড়িতে হাজির হয়ে তাকে একপ্রকার তুলে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে তার আর কোনও সন্ধান মেলেনি। বিকেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। গভীর রাতে গোপালনগরের শিমুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, গৌড় দত্তকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই এলাকায় পাওয়া গেছে। পুলিশই ওই ব্যক্তিকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরিবারের লোকজন বনগাঁ হাসপাতালে যাওয়ার পর দেখতে পান যে, গৌড় দত্তকে হাসপাতালের এইচডিইউতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকেরা জানান, গৌড় দত্তের মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, সোনার বিস্কুট না পেয়ে পাচারকারীরাই তাকে পিটিয়ে খুন করেছে। এই ঘটনার পর রাতেই বনগাঁ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে, রসিদ মন্ডল, রাকেশ কারিগর এবং মনোজ বৈদ্য নামে ৩ সোনা পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে রসিদ ও রাকেশ পেট্রাপোল এলাকায় বাসিন্দা। মনোজ গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

