Shamik, BJP, রাস্তায় বেড়িয়ে দেখুন, মানুষ কী চাইছে শুনুন, রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনারকে বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

আমাদের ভারত, ১৬ জানুয়ারি: এসআইআর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ- বিক্ষোভ হোক বা বিএলও’দের দাবি- দাওয়া বা উত্তেজনা। এই সমস্ত ঘটনা ঘিরে রাজ্যে যদি সাংবিধানিক সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়, তাহলে তা রাস্তায় নেমে খতিয়ে দেখুক নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যপাল। সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

অতিরিক্ত কাজের চাপ। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম থেকেই এই অভিযোগে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএলওদের একটা বড় অংশ। এই পর্বের প্রায় শেষ লগ্নে এসেও বিএলও’দের একাংশের একই অভিযোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গণ ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন বিএলও’দের একটা অংশ। কেবল তাই নয়, অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে এসআইআর ইস্যুতে কার্যত জ্বলছে বাংলার প্রশাসনিক ভবন। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় বিডিও অফিসে খোদ বিধায়কের নেতৃত্বে ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠেছে, আর তার পরদিন উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়ও বিডিও অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে নথি। ফলে এই গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনারকে পথে নেমে দেখার আহ্বান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দিল্লি বা রাজভবনে বসে রিপোর্ট পড়ে বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।

রাজ্যপালের সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজ্যপাল শুধু রাজভবনে বসে থাকলে হবে না। একটু রাস্তায় বেরিয়ে দেখুন। রাজভবন থেকে বেরিয়ে আসুন। রাজ্যের পরিস্থিতি একটু দেখুন। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যান, আমরা সেটা চাই।

শমীকের বক্তব্য, সাংবিধানিক সঙ্কট যদি মনে করে কমিশন, তাহলে দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যপালকে। দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রপতিকে।

কেবল রাজ্যপালই নয়, বিএলও’দের বিক্ষোভ আন্দোলন ও তার পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যও মন্তব্য করেছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ। তাতে কমিশনকে সহযোগিতা করে বিএলও’রা। তারা আক্রান্ত হলে আমরা সেটা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবো। কিন্তু তারা আক্রান্ত হচ্ছেন, পদত্যাগ করছেন, সেক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশন কী করছে? তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যদি ইলেকশন কমিশন অপারগ হয়, যদি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়, তাহলে তার দায় রাজ্যপালকে নিতে হবে। রাষ্ট্রপতিকে নিতে হবে।

এর আগেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। ফলতায় মৃতদের নামের তালিকায় রাখার জন্য তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তখন জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বলেছিলেন, ঠান্ডা ঘরে বসে থাকলে চলবে না। একেবারে দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না। বাংলায় আসুন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। মানুষ কী বলছে, কী চাইছে তা নিজের চোখে দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *