শুধরে যান, না হলে এমন ব্যবস্থা করব যে শুধরানোর সময় পাবেন না, দিনহাটায় গিয়ে হুঙ্কার সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২৮ ফেব্রুয়ারি:
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার পর মঙ্গলবার কোচবিহারে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেখানে গিয়ে দলের আহত আক্রান্ত বিজেপি কর্মী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং একই সঙ্গে দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহকে হুঁশিয়ারি দেন। তার কথায়, “এখনো সময় আছে শুধরে যান, না হলে এমন ব্যবস্থা করব যে পালানোর পথ পাবেন না।”

দিনহাটায় গিয়ে রাজ্য সভাপতি আশ্বাস দেন, যে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙ্গচুর করেছে শাসকদলের কর্মী সমর্থকরা তারা তাদের সকলের বাড়ি আবার তৈরি করে দেবেন। রাজ্য সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে লিখিত একই আশ্বাস দিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক‌ সহ অন্যান্যরা। মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ সুকান্ত নিউ কোচবিহার স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে রওনা দেন দিনহাটার উদ্দ্যেশ্যে। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, বিজেপির জেলা সভাপতি সুকুমার রায়, বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী সহ অনেকে। তারা প্রথমেই সাহেবগঞ্জের বিজেপি পার্টি অফিসে যান। বিজেপির অভিযোগ, সেদিনের গন্ডগোলের পর তৃণমূল তাদের কার্যালয় ভাঙ্গচুর করেছে। এরপরই সুকান্ত যান কালমাটিতে দলীয় কর্মী পরিমল বর্মনের বাড়ি। শিমুলতলার দিনহাটা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্না সাহার বাড়িও যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

উদয়ন গুহকে কটাক্ষ করে, সুকান্ত বলেন, “দিনহাটার বিধায়ক কম্পার্টমেন্টাল বিধায়ক। গাড়ি ভর্তি করে লোক নিয়ে এসে আমাদের কর্মী সমর্থকদের অত্যাচার করেছে ও বাড়ি ভাঙ্গচুর করেছে। আমরা বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। এখনো সময় আছে শুধরে যান, না হলে আমাদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যে তখন শুধরানোর সময় পাবেন না। ”

সুকান্তের দাবি, “মানুষের সমর্থন হারিয়ে ফেলেছেন উদয়ন গুহ। এখন যদি দিনহাটায় ভোট হয় তাহলে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবে বিজেপি। “উদয়ন গুহের উদ্দেশ্যে বলেন, “ওর মনে রাখা উচিত সব ক্রিয়ার একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আশা করি এটা ভুলে গিয়েছেন। মনে না থাকলে দেওয়ালে লিখে রাখুন। সময় এলে আমরাও বুঝিয়ে দেব।”

সুকান্ত অভিযোগ করেন, তাদের দলের ৪৮ জন নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে স্বতপ্রণোদিত ভাবে মামলা করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, “আমাদের বিজেপির সাতটি মোর্চা রয়েছে, তেমনি তৃণমূলেরও আরও একটা মোর্চা আছে, সেটা পুলিশ মোর্চা বা খাকি মোর্চা বা মামা মোর্চা।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের ওপর কোনও পদক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই মমতার পুলিশের প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *