মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স বদল হতে চলেছে, প্রস্তাব পাশ হয়েছে মোদী মন্ত্রিসভায়

আমাদের ভারত, ১৬ ডিসেম্বর: মেয়েদের বিয়ের বয়স আর ১৮ থাকবে না। খুব তাড়াতাড়ি মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর হতে চলেছে। বুধবার এই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

মোদী মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়া এই প্রস্তাব বিলের আকারে সংসদে পেশ করা হবে আর সেই বিল সংসদে পাস হলেই তা আইনে পরিণত হবে। ফলে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বিয়ের বয়সের ব্যবধানের এই ফারাক আর থাকবে না। বর্তমানে বাবা-মায়ের অনুমতি থাকলে আইনসম্মত ভাবে ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারে মেয়েরা। কিন্তু সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবনা চিন্তা করছিল যদি এই বয়সটা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দেওয়া যায়।

গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেয়েদের বিয়ের বয়স বেড়ে ২১ হতে পারে। বর্তমানে শিক্ষা-চাকরি সহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য নতুন করে অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর পরিবর্তিত এই সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর থাকা উচিত কিনা তার পূর্ণবিবেচনার দাবি উঠেছে।

সেই দাবি মেনে কেন্দ্র সরকার এবার পদক্ষেপ করল। গত বছরের জুন মাসে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের কাছে মেয়েদের বিয়ের বয়স পূনর্বিবেচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো তার রিপোর্ট এসেছে । কমিটির রিপোর্টে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সেই প্রস্তাবে বুধবার ছাড় দিয়েছে।

কেন্দ্রের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে যেমন বড় বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনই মহিলাদের সামাজিক অবস্থানেও বদল আসবে।

১৯৭৮ সালে শেষবার বিয়ের বয়স সংক্রান্ত আইন সংশোধন হয়েছিল। সেই সময় মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮ করেছিল তৎকালীন সরকার। সেই মতো পুরুষদের বিয়ের নূন্যতম বয়স ২১ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান আর্থসামাজিক পরিকাঠামোয় সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্র। আর সেই কারণেই মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স এবার বাড়ানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *