স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৫ এপ্রিল: নতুন বছরের প্রথমদিনে এক গ্রামীণ মেলা। তবে সক্রিয়তায় আর পাঁচটা মেলার থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। কবন্ধের পুজো এবং তাকে ঘিরে মেলায় মাতল রাজ্যের বয়নশিল্পের প্রাণকেন্দ্র ফুলিয়া।
শান্তিপুর থানার ফুলিয়ার তালতলা এলাকায় প্রায় ষাট বছরের বেশি সময় ধরে এই কবন্ধের পুজো এবং মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। যা বর্তমানে খ্যাতি পেয়েছে ভুতের মেলা নামেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, এক সময়ে এই পুজো তাঁরা ওপার বাঙলায় করতেন। ওপার বাঙলা থেকে এদেশে চলে আসার পরে যখন তাঁদের পূর্ব পুরুষরা এখানে বসবাস শুরু করেন সেই সময়ে এখানেও এই পুজোর প্রচলন করেন। চৈত্রমাসেই শুরু হয়ে যায় যাবতীয় উদ্যোগ। শিবের পাটা মাথায় নিয়ে ঘোরেন এলাকার সন্ন্যাসীরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেন ‘ভুক্তা’–এর মধ্যে থাকে চাল, ডাল, আনাজ ইত্যাদি। দিনের শেষে কোনো একটি জায়গায় বসে তা রান্না করে খান তাঁরা। এই কয়েকদিন নিরামিষ খান তাঁরা।

সেখানেই পয়লা বৈশাখের দিনই পুজিত হয় একটি কবন্ধ মুর্তি। মাটির ওপরেই শায়িত থাকে সেই মূর্তি। তৈরিও হয় এখানেই। তৈরি করেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। যার মাথা থাকে না, চোখ, নাক ইত্যাদি ঢুকে থাকে শরীরের একটু নীচের দিকে। গলা থাকে না।
পাঁচের দশকের দিক থেকেই এই পুজো শুরু হয় যাদব সন্ন্যাসীর হাত ধরে, এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। পয়লা বৈশাখের দিন এই পুজো ঘিরে মেলাও বসে। ভুতের মেলা নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই মেলায় প্রথম দিনে ভীড় করেন বহু মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্র বজ্রাঘাত করেছিলেন, সেই কারনে এক রাজার (অন্যমতে রাজপুত্র) মস্তক তাঁর দেহের ভেতরের অংশে ঢুকে যায়। তিনি কবন্ধ রূপ পান। ইন্দ্র তাকে বলেন কবন্ধ মাটিতে পড়ে থাকলেও সে হাত বহুদূর প্রসারিত করে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। শ্রীরাম এসে তাঁর অঙ্গচ্ছেদ করলে তাঁর মুক্তি হবে। এখানে সেই কবন্ধ মূর্তিই পুজিত হয় দেবতাজ্ঞানে।”

কিন্তু কি কারনে এখানে কবন্ধ মুর্তি পুজিত হয় তাঁর সঠিক কারন অবশ্য জানেন না কেউই। স্থানীয়রা বলেন, “এখানে এই পুজোর সঠিক কারন জানা যায় না। তবে ভুতকে তো শিবের চ্যালা হিসাবেই ধরা হয়। সেখানে মনে করা যায় নতুন বছর শুরুর দিনে শুভ শক্তিকে আহ্বান জানানোর জন্যই এই পুজো।”

