আমাদের ভারত, ১১ জানুয়ারি: ময়নাগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরাট ভাঙন হলো আজ। তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শিবম বাসুনিয়া ও তার ছেলে শশাঙ্ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভায় বিজেপিতে যোগ দিলেন।
ময়নাগুড়িতে রবিবার জনসভা করেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানেই দলবদল করা বাবা ও ছেলের সঙ্গে ৩০০ জন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, যার অর্থ ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত এলাকায় এবার ভোটের আগে জোর ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেসে। এমনিতেই উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। গত বিধানসভা নির্বাচনে বেশ কিছুটা পিছিয়ে ছিল তৃণমূল, কিন্তু লোকসভায় ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পেরেছিল ঘাসফুল শিবির। কিন্তু বাসুনিয়াদের এই দল বদলের ফলে সেই পরিস্থিতিতে এখানে যথেষ্ট চাপে পড়বে রাজ্যের শাসক দল বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গে বড় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে শুরু করেছে তৃণমূল। পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে একাধিকবার উত্তরবঙ্গে সফরও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফর সেরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার মধ্যে তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা অনুগামীদের নিয়ে দলবদল করল যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
ময়নাগুড়ির জনসভা থেকে সুকান্ত মজুমদার সরাসরি নিশানা দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, ইডির হাত থেকে ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোটেও ঠিক কাজ করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্মণ রেখার মধ্যে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তা না হলে বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্মণ রেখা মানতে বাধ্য করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা দেগে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপি আর লুট করতে দেবে না তাদের। তিনি বলেন, জনগণের টাকা, গরিব মানুষের টাকা যারা খেয়েছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার এলে তাদের বমি করাবে। আমাদের সরকার এলে ময়নাগুড়ি থানার সামনে একটি বুলডোজার থাকবে। প্রত্যেকটা বাড়ি ভাঙ্গা হবে। প্রত্যেকটা ইটে যারা টাকা দিয়েছেন তারা ভাগ করে নিয়ে চলে যাবেন। তাঁর কথায়, বিজেপিতে ঢুকতে হলে জনগণের টাকা জনগণকে ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের সামনে নাক খত দিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে তবে বিজেপিতে আসতে হবে।

