সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ আগস্ট: কনজাংইটিভাইটিসে জেরবার বাঁকুড়া। শহর থেকে গ্ৰাম সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে জীবাণু ঘটিত এই চোখের রোগ। আক্রান্ত হলেই চোখ লাল, জল পড়া, চোখ ফুলে যাওয়া, কোনও কোনও ক্ষেত্রে পিচুটি কাটা, ঘুম থেকে ওঠার সময় চোখ জুড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এই রোগটি প্রচণ্ড রকমের ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একসাথে থাকার কারণে পড়ুয়াদের মধ্যে দ্রুত সংক্রামিত হচ্ছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম বিপাকে।
এই সময় বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যার ফলে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। পড়ুয়াদের এই সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত পড়ুয়াদের স্কুলে আসতে নিষেধ করেছেন। কনজাংইটিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে পড়ুয়াদের বিকল্প দিনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা এই সময় চোখে বারবার পরিষ্কার জলের ঝাপটা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চোখে মূলতঃ তিন ধরনের সংক্রমণ হয়। ব্যাকটিরিয়াল, ভাইরাল ও এ্যলার্জি ঘটিত। তিনটি ক্ষেত্রেই চোখ লাল, কড়কড় করা, জল পড়া ও ফুলে থাকার উপসর্গ দেখা দেয়। ব্যাকটিরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার সময় চোখ জুড়ে যাওয়া ও পিচুটি কাটার উপসর্গ থাকে। চক্ষু চিকিৎসকরা এই সময় চোখে জলের ঝাপটা ছাড়াও কালো চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও সিক্রোফক্সাসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। চোখ জুড়ে যাওয়া আটকাতে অ্যান্টিবায়োটিক মলম ঘুমানোর আগে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির বালিশ, গামছা, রুমাল অন্য কেউ যাতে ব্যবহার না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

