পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মার্চ: বাড়িতে সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হচ্ছে না। অনলাইনে গ্যাস বুকিং করাও যাচ্ছে না। তবে কি যুদ্ধের জন্য আর গ্যাস মিলবে না? এমনই ‘আতঙ্ক’ থেকে সরাসরি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কাউন্টারে হাজির উপভোক্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেদিনীপুর শহরের ওলিগঞ্জ চত্বরে ২ ডিস্ট্রিবিউশন কাউন্টারে মানুষের ঢল। একদিকে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও অপরদিকে ইন্ডেন।

ওই এলাকার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কাউন্টারের সামনে দেখা যায় আতঙ্কিত উপভোক্তাদের লম্বা লাইন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। যদিও, ওই গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের তরফে উপভোক্তাদের জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সবাই মিলে বুকিং করার চেষ্টা করছেন বলেই এই সমস্যা। তবে, আগের তুলনায় গ্যাসের সঙ্কট কিছুটা বেড়েছে। সেজন্যই দ্রুত ডেলিভারি করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সঙ্গেই বাণিজ্যিক গ্যাসের সাপ্লাই নেই বলেও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওই ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের ডিলার পয়েন্ট থেকে। এই ডিসট্রিবিউশন কোম্পানির তরফ থেকে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞপ্তি। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একটি সিলিন্ডার বাড়িতে ডেলিভারি পাবার পর ২৫ দিন বাদে পরের গ্যাস সিলিন্ডারটি বুক করতে পারবেন। তারপর বাড়িতে গ্যাস পাবেন। এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেয়ালে দেয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়ার ছবিও ধরা পড়েছে।
যুদ্ধের আবহে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, একটি সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার অন্তত পঁচিশ দিন পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুকিং করতে হবে। আগে এই সময় ছিল একুশ দিন। এনিয়ে এমনিতেই আতঙ্কে রয়েছেন উপভোক্তারা। সেই সঙ্গেই গ্যাস ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে আজ শহরের আলিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি সংস্থার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কাউন্টারে পৌঁছে যান উপভোক্তারা। তাপস দাস নামে এক উপভোক্তা বলেন, আমি বেশ কিছুদিন আগে বুকিং করেছি, তা সত্ত্বেও গ্যাস ডেলিভারি হয়নি। তাই এখানে আসতে হয়েছে। এখন বলছে, স্লিপ দেওয়া হবে। সেটা নিয়ে গোডাউনে যেতে হবে। একই অভিযোগ নন্দ সাহা, সুব্রত দে নামে উপভোক্তাদেরও। তাঁরা বলেন, এক ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস ডেলিভারি বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই ছুটে এসেছি। অক্ষয় গুহ নামে এক বাসিন্দা বলেন, নতুন করে বুকিং করা যাচ্ছে না। গ্যাস পাওয়া যাবে কিনা, এই আতঙ্কেই এখানে এসেছি।
যদিও, ওই সেন্টারের ডিলার সৌরভ মুখার্জি বলেন, গ্যাস পাওয়া যাবে না, এই ভয় থেকে সবাই মিলে অনলাইনে একসাথে গ্যাস বুকিং করার চেষ্টা করছেন। সেজন্যই এই সমস্যা। তিনি বলেন, পঁচিশ দিনের আগে বুকিং হবে না। তিনি এও বলেন, আগের থেকে সাপ্লাই একটু কমেছে। গ্যাসের সঙ্কট আছে। সেজন্যই গ্যাস ডেলিভারির ক্ষেত্রেও একটু সমস্যা হচ্ছে। বাণিজ্যিক (কমার্সিয়াল) গ্যাসের সাপ্লাই পুরোপুরি বন্ধ বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আস্তে আস্তে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা বাণিজ্যিক ডিস্ট্রিবিউশন স্বাভাবিক করতে পারব।

পাশাপাশি হোটেল ইন্ডাস্ট্রির তরফ থেকে দীপঙ্কর দে জানান, যদি এই ধরনের বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি থাকে তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে, তেমনটাই আমরা আশঙ্কা করছি। এর ফলে বহু পরিবার এই ইন্ডাস্ট্রিতে যারা কাজ করে তারা বেকার হয়ে পড়বে। তাদের রুটি রুজিতেটান পড়বে। তা ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাস্তা আমরা দেখছি না।
মেদিনীপুর শহরের ডিস্ট্রিক্ট অফ চেম্বার কমার্সের তরফ থেকে চন্দন রায় জানিয়েছেন যে, এটা একটা হঠাৎ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উপোক্তাদের কাছে আবেদন রাখছি আতঙ্কের কিছু নেই, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। গৃহস্থের বাড়িতে গ্যাসের যোগানে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক গ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সেটাও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে। যাতে করে এই সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি সচল থাকে।

