সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ জুন: পুরুলিয়া শহরের ধীবর সমিতির পুজোর মন্ডপে দেবী গঙ্গার সঙ্গে পুজো করা হয় ভগীরথেরও। পৌরাণিক মতে এই দেশে গঙ্গাকে আবাহ্বান করে নিয়ে এসেছিলেন তিনিই। কৃতজ্ঞতার স্থান থেকে তাই ভগীরথের মূর্তিও গঙ্গাদেবীর মূর্তির পাশে রাখা হয়েছে এখানে। ভগীরথের মূর্তিকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে পুজো করা হয় এখানে।
জলের মধ্যে থেকে যাঁরা জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন সেই ধীবররা দশহরা অর্থ্যাত্ গঙ্গা দেবীর আরাধনায় মাতলেন। পরম্পরা মেনে পুরুলিয়ার ধীবর পরিবারগুলি পূজার আয়োজন করে। পুরুলিয়া শহরের ধীবর পাড়ার স্থায়ী দুর্গা মন্দিরের মধ্যেই গঙ্গাদেবীর পুজোকে ঘিরে উৎসবের চেহারা নেয়। সকাল থেকেই মন্ডপে ধীবর সমিতির পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা আর ভক্তি নিবেদন করেন দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে। ভালো চাষ ও ব্যবসার প্রার্থনার পাশাপাশি তাঁরা কোনও বিপদ থেকে রক্ষা করারও দেবীর কাছে আবেদন রাখেন। পুজোকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে লোক সঙ্গীতের জলসা।

শুক্রবার হবে বিসর্জন। আর তার পর থেকেই পুরো দমে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন ধীবর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। কেউ বাড়ি থেকে পুঁজি বিনিয়োগ করেন, কেউ সম্পত্তি বন্ধক রেখে মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাছ চাষ ও ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসার সঙ্গে পরোক্ষভাবে প্রায় এক হাজার মানুষ যুক্ত থাকেন। স্থানীয় লিলু ধীবর বলেন, “বৃষ্টির উপর খানিকটা নির্ভর করে মাছ চাষ ও ব্যবসা। গঙ্গা দেবীর করুণা হলেই আমাদের ইচ্ছে পূরণ হবে।” স্থানীয় প্রবীণদের কথায়, এখন মাছ চাষ সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। এখান থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় মাছের চারা রপ্তানি হতো। এখন কমে গেছে।”

