প্রদীপ কুমার দাস, আমাদের ভারত, ২৬ এপ্রিল: লকডাউন ভেঙে মদ-জুয়ার আসর বালুরঘাটের চকভৃগুতে। প্রতিবাদ করায় মাথা ফাটল এক প্রতিবাদীর। পুলিশকে জানিয়েও কোনও ফল পাননি, অভিযোগ বাসিন্দাদের। রবিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চক্ভৃগু গ্রন্থাগার পাড়া এলাকায়। ঘটনার পরেই আক্রান্ত বিজয় দত্তকে রক্তাক্ত অবস্থায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। যদিও এই ঘটনায় এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই চক্ভৃগুর ওই গ্রন্থাগার পাড়া এলাকাতে চলছে মদ ও জুয়ার রমরমা আসর। করোনার লকডাউনের ফলে আরও বৃদ্ধি পায় সেই মদ ও জুয়ার আসর বলে অভিযোগ। প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ জনের উপস্থিতিতে চলছিল ওই আসর বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই সমাজবিরোধীদের দখলে চলে যায় ওই এলাকা বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। এমন ঘটনায় অতিষ্ট বাসিন্দাদের একাংশ এব্যাপারে পুলিশকে জানালেও কোনও ফল পাননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ রবিবার সকালে নদীর ধারে গরু বাঁধতে যাচ্ছিলেন বিজয় দত্ত নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। সাতসকালে লকডাউন ভেঙে এলাকায় প্রচুর মানুষের সমাগমে জুয়ার আসর দেখেই কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি। আর তার পরেই তাঁর উপর হামলা করে সমাজবিরোধীরা। ইঁট দিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয় দুষ্কৃতিরা। ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ছুটে আসতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই অভিযুক্তরা।
বিজয় দত্ত নামে এক ব্যক্তি বলেন, লকডাউনে সকলেই ঘরবন্দী নিজেদের জীবন বাঁচাতে। কিন্তু রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫-৩০ জনের সমাজবিরোধী দল। যার প্রতিবাদ করতেই মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তির আত্মীয় শেফালী দত্ত জানিয়েছেন, কিছু মানুষের এমন কর্মকান্ডে এলাকায় চলাফেরা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবাদ করলেই যদি এমন আক্রমণ হয় তাহলে মানুষ কোথায় যাবে? পুলিশ প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
প্রতিবেশী অমিত দে সরকার ও বিপ্লব চক্রবর্ত্তীরা জানিয়েছেন, পাড়ার মধ্যে এমন কারবার চললে পরিবেশ নষ্ট হবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লকডাউন ভেঙে চলছে জমায়েত ও মদ-জুয়ার আসর। বার বার সে কথা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

