গঙ্গাজঘাঁটির পাকতোড় গ্ৰামে নবনির্মিত শিবমন্দিরে গাজন উৎসব

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৪ এপ্রিল: নবনির্মিত শিবমন্দিরে গাজন উপলক্ষে উৎসবে মেতেছে গঙ্গাজঘাঁটির পাকতোড় ও সন্নিহিত গ্ৰাম। স্রেফ মাধুকরী করে একটা আস্ত শিব মন্দির বানিয়ে প্রথম বৎসর গাজন উৎসবে এলাকার ১৫টি গ্রামে ৩ দিন ৩ বেলা অরন্ধনের ব্যবস্থা করে বিস্ময় সৃষ্টি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক সাধু দম্পতি। তাঁর কর্ম যজ্ঞ দেখে এগিয়ে এসেছেন এলাকারই অধিবাসীরা। বৃহস্পতিবার নীল ষষ্ঠীর দিন থেকে এই ব্যতিক্রমী গাজন উৎসব শুরু হয়েছে গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পাঁকতোড়ে আনন্দ সাধুর শিব মন্দির প্রাঙ্গণে।

এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুনীল গরাই জানান, আনন্দ সাধু দম্পতি গত দশ বারো বছর ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মাধুকরী করেছেন স্রেফ একটি শিব মন্দির তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি কারো কাছে ২ ব্যাগ সিমেন্ট তো কারো কাছে ইট, বালি ইত্যাদি সংগ্রহ করে এবছর শিব চতুর্দশীতে মন্দিরের গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ইচ্ছা ও স্বপ্নকে স্বার্থক করতে মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের বহু ব্যবসায়ী এগিয়ে আসেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন রায়। ভক্ত ব্যবসায়ী শ্রীমন্ত পাতর বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তার উদ্যোগে ৩ দিনের গাজন উৎসব ও গাজন মেলার আয়োজন করা হয়। প্রথম বছরেই প্রায় ১৫০ ভক্তা সন্ন্যাসী শান্তি কামনায় দণ্ডি কাটেন। বৃহস্পতিবার শতাধিক মহিলা মঙ্গল কলসে পবিত্র জল নিয়ে মন্দিরে আসেন। গাজন মেলার উদ্বোধন করেন অমরকানন রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের মহারাজ স্বামী সমরানন্দজী। উপস্থিত ছিলেন কথা সাহিত্যিক ত্রিলোচন ভট্টাচার্য, শিক্ষক রাজেশ কর্মকার, কৃষ্ণদাস মুখার্জি, দুলাল রায় সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

গাজন উপলক্ষে বিশাল এলাকাজুড়ে মেলা বসেছে। পাশাপাশি এলাকার মৃৎশিল্পীরা বিভিন্ন মূর্তি বানিয়ে ১০০ দিনের কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সরকারি বিভিন্ন জন কল্যাণমুখী প্রকল্পের সাথে পৌরানিক কাহিনীর প্রচার সহ সচেতনতা মূলক বার্তা দিয়েছেন। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে দুঃস্থ মানুষদের মশারি, নতুন বস্ত্র ও গুনীজন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার ৩ দিন ধরে ভজন, কীর্তন, বাউল ও ঝুমুর গানের মধ্য দিয়ে বাঁকুড়া জেলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে।

আনন্দ সাধু বলেন, আমার স্ত্রী একদিন স্বপ্ন দেখেন বাবা শিব এখানে অধিষ্টান করতে চাইছেন। সকালে আমাকে সেকথা বলায় আমরা মাধুকরী শুরু করি। যখন যেমন পেয়েছি সেভাবেই মন্দির নির্মাণের কাজ করতে থাকি। পরের দিকে এর জন্য মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের বহু ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, সাধারণ মানুষ সাহায্য করেছেন। গাজনের ৩ দিন এলাকার ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩ বেলা পংক্তি ভোজনের আয়োজন করা হয়েছে। ৩ দিনে প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত এই পংক্তি ভোজনে অংশ নেবেন বলে জানান শ্রীমন্ত পাতর।

মেলার আবর্জনা সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক্টর দিয়ে সাফাই করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তিনি বলেন, এর জন্য গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ প্রশাসন সহযোতগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *