আমাদের ভারত, ১৬ জুন, বর্ধমান, ১৬ জুন: কোনও ভাবেই সাংসদ সুনীল মন্ডলকে তৃণমূলে যাতে ফেরানো না হয় সেই দাবি জানিয়ে পোস্টার পড়ল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দলীয় নির্দেশে এই পোস্টার দেওয়া হয়নি। দলের সাধারণ কর্মীরা সুনীল মন্ডলের বেইমানির জেরে রেগে এই পোস্টার দিয়েছে। তবে তাকে যেন কোনও ভাবেই আর দলে ফেরানো না হয় সেই দাবি তারা জানাচ্ছেন।
মঙ্গলবার সাংসদ সুনীল মন্ডল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তথাগত রায় ও দিলীপ ঘোষকে কোনও সম্মান না দিয়ে তাদের তথাগত ও দিলীপ নাম ধরে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা না করে আত্মসমালোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, পচা শামুকেও পা কাটে। একটা ভোটের অনেক দাম। তাই বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে যদি এটা ভাবতো যারা বাইরের প্রবাসী এসেছিল তারা বাংলার কী বোঝে। বাংলা নিয়ে তাদের কোনও সেন্স আছে? ভোটের দুদিন আগে বাংলার বাইরে থেকে এখানে এসে তারা বাংলার মানুষের মন জয় করবে? এই জায়গাটা আমি ঠিক ভাবিনি। আমি দেখেছি যারা প্রবাসী এসেছিল তাদের রাজনৈতিক জ্ঞান একেবারেই ছিল না। তারপর তাদের ভাষাগত পার্থক্য ছিল।এখানকার গ্রামে গঞ্জের মানুষ হিন্দি বুঝতে পারে না তারা হিন্দি বলবে কীভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। দলকে সে কথা যে বলব সেই সুযোগ আমার ছিল না। শুধু মিটিং মিছিল জনসভা করলেই হবে না মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আজ তথাগত ও দিলীপ ঘোষ যেভাবে বলেছেন আগে যারা উনিশের পরে এসেছে তারা আগে বিজেপি হোক তারপর আমরা তাদের সম্বন্ধ্যে ভাববো, এই কথাগুলো বলাই তো অন্যায়।
পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, তিনি এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। এছাড়া মুকুল রায়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ রয়েছে। এরপরেই জল্পনা শুরু হয় যে সুনীল মন্ডল কি তাহলে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন। এই খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হতেই বুধবার জামালপুরের নুড়ি মোড়, আমড়া মোড় সহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার পড়ে। তৃণমূল নেতা কর্মীদের দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে সুনীল মন্ডল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন। তাই এই বেইমান, গদ্দার সুনীল মন্ডলকে যাতে কোনও ভাবেই দলে ফেরানো না হয় সেই আবেদন করা হবে।

