অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৫ মে: “পরীক্ষার পর অপেক্ষাতেই কেটে গেল প্রায় অর্ধেক জীবন। এর পর আশা দেখব কীভাবে?” রাজ্যে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি-র বিজ্ঞপ্তির খবরে এই প্রতিক্রিয়া দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী।
সরকারের ঘোষণায় কতটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছো? নাকি কেবলই আশ্বাস পেতে পেতে আশা করার শক্তিটাও হারিয়ে ফেলেছ? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই পরীক্ষার্থী এই প্রতিবেদককে বলেন, “৬ বছর নয় ২০১২ সাল থেকে ১০ বছরের মধ্যে একটাই এসএসসি হয়েছে। তাও ৮৫ % দুর্নীতিতে নিমগ্ন। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ ক্লাসের নিয়োগটুকু করলেও সেই একটা এসএসসির মধ্যে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির নিয়োগ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। দুর্নীতির জন্য আদালতে আটকে আছে।
তিনি জানান, “আমার বয়স ৩৬ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ২০০৭ সালে বিএ, ২০০৯-এ এমএ, ২০১২ সালে বিএড করেছি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখতে দেখতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন শুধু
এসএসসি-র চেয়ারম্যান নিয়োগ হয় ঘন ঘন। আর আমাদের চাকরির নিয়োগ মাননীয় মন্ত্রী মশাইদের কাছে, ‘খুব দ্রুত’ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এটা এতবার শুনেছে শিক্ষিত বেকার যুবকরা যে তাদের শোনা মাত্রই রাগ হয়।
এখন নোটিফিকেশন দেখে আমাদের মতো হবু শিক্ষকদের আর কিছুই প্রতিক্রিয়া নেই। জীবনটা নরক যন্ত্রনায় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন অবসাদে আত্মহত্যাও করেছে।”

