সস্তা হবে জ্বালানি খরচ, দুর্গাপুর সিএমইআরআই তৈরী করল পরিবেশ বান্ধব সৌরবিদ্যুত চালিত উনুন

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৮ অক্টোবর: কয়লার জ্বালানিতে বাড়ছে দূষণ। তার ওপর কয়লার ভান্ডার শেষের মুখে।লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি গ্যাসের দাম। নাভিশ্বাস দশা সাধারণ মানুষের।  এবার গৃহস্থের রান্না ঘরে সস্তায় জ্বালানি দেবে সৌর বিদ্যুতের উনুন। এমনই উনুন তৈরী করল দুর্গাপুর যান্ত্রিক প্রযুক্তি গবেষণাগার (সিএমইআরআই)। শুক্রবার ওই উনুনে হাতে কলমে রান্না করে দেখাল সংস্থার বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে ওই উনুনের প্রযুক্তি নিয়েছে জেলারই দুই সংস্থা। খুব শীঘ্রই বাজারজাত হবে বলে জানয়েছে বিজ্ঞানীরা।

গত কয়েকমাস ধরে জ্বালানি গ্যাসের দাম ঊর্দ্ধমুখী। হাজারের কোঠায় পৌঁছে গেছে গৃহস্থালির কাজে ব্যাবহৃত সিলিন্ডার। লকডাউনের জের কাটিয়ে ওঠার আগে জ্বালানি গ্যাস কিনতে চোখে সরষে ফুল দেখছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। রাজ্যের জঙ্গলমহলে ইতিমধ্যে আগের মত কাঠের আগুনে রান্নার কাজ শুরু করেছে। এবার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারে সস্তায় পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি দিতে সৌরবিদ্যুত চালিত উনুন তৈরী করল দুর্গাপুর সিএমইআরআই। শুক্রবার সৌরবিদ্যুত চালিত উনুনে রান্না করে দেখালো সিএমইআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা। কি আছে ওই উনুনে? সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। সেখান থেকে ব্যাটারি চার্জ হয়। ওই ব্যাটারি থেকে
বিজ্ঞানীদের তৈরী করা উনুনে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়। কিছুটা বৈদ্যুতিক হিটারের মত দেখতে উনুনগুলো।

বিভাগীয় বিজ্ঞানী চঞ্চল লোহা জানান, “প্রাথমিক যে উনুন তৈরী করা হয়েছে, তাতে আড়াই ঘন্টা জ্বালানী দেবে। সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ৪০ হাজার টাকা। আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত চলবে।” তিনি আরও বলেন,
“এলপিজি ব্যাবহার করা হলে প্রতি কেজিতে ৩ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। তবে সৌরবিদ্যুত চালিত উনুন সম্পূর্ণ দূষণহীন। পরিবেশ বান্ধব। তাই গৃহস্তের রান্নাঘরে সহজে পৌঁছানোর জন্য এধরনের উনুনে সাবসিডি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন রাখছি।” 

সিএমইআরআইয়ের ডিরেক্টর ডঃ হরিশ হিরানী বলেন, “ইতিমধ্যেই দুটো সংস্থা প্রযুক্তি নিয়েছে। বেশি পরিমাণে তৈরী করলে উনুনের দাম নাগালের মধ্যে থাকবে। সরকারের কাছেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুম্বই আইআইটির সিইও উনিকৃষ্ণনন। তিনি বলেন,” এধরনের সৌরবিদ্যুৎ চালিত উনুন পরিবেশের পক্ষে উপযোগী। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিশেষ হিটারে উনুন জ্বলবে। ৬০০ ডিগ্রি তাপমাত্রা উৎপন্ন হবে। আড়াই ঘন্টার মতো চলবে। আত্মনির্ভর ভারতে সিএমইআরআইয়ের এটা এক সাফল্য। সরকার সাবসডি দিলে সাধারণ মানুষ সহজে ব্যাবহার করতে পারবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *