আজকের পর থেকে দেওয়াল লিখনটা ক্রমশ আরও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে

রজত ভরদ্বাজ মুখার্জী
আমাদের ভারত, ১৩ সেপ্টেম্বর:
বেজে গেল বিদায় ঘন্টা। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, সম্ভবত দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত একটি ঘোর তমসাচ্ছন্ন অধ্যায়ের যবনিকাপাত এবং রৌদ্রকরোজ্জ্বল অধ্যায়ের শুভ সূচনা, এই দুইয়ের ঐতিহাসিক এক যুগসন্ধিক্ষণ। তৃণমূলের অপশাসনে জেরবার বাঙালি শত বাধা অতিক্রম করে বারংবার পুলিশের দুর্লঙ্ঘ্য ব্যারিকেড ভেঙ্গে দিয়ে প্রমাণ করল যে, “এ লড়াই সেই সে লড়াই সকল লড়াই ঘুচিয়ে দেবার, এ লড়াই বহু দিনের বাকির হিসেব চুকিয়ে দেবার।”

১৩ই সেপ্টেম্বরের এই ঐতিহাসিক কালখন্ডের সাক্ষী রয়ে গেলেন আপামর বঙ্গবাসী। কলকাতার রাজপথ প্লাবিত হল জনজোয়ারে। এবারের জনপ্লাবনের বৈশিষ্ট্য একটাই, শাসকের চুরির প্রতিবাদে রাস্তায় নামলন শুধুমাত্র বিজেপি কর্মীরাই নন, পথে নেমেছেন লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। দাবি একটাই, “দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকারের অপশাসন থেকে অবিলম্বে মুক্তি চাই।” পশ্চিমবঙ্গ এখন নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরে পরিণত। শিল্প বলতে শুধুমাত্র চপ আর বোমা। চোরেদের সরকারের শাসনকালে কয়লা থাদান, বালি পাথর, নারীর সম্ভ্রম, কিশোরের স্বপ্ন, আস্ত পুকুরের পাশাপাশি চুরি যাচ্ছে চাকরিও। যোগ্য প্রার্থীরা বছরের পর বছর রাস্তার ধারে বসে আন্দোলন করছেন আর শাসকের স্তাবকবৃত্তি করা অশিক্ষিত টায়ার পাংচার সারাই কর্মীরা করছেন শিক্ষকতা। সবটাই টাকার খেলা, সবটাই লেনদেনের গল্প, জেনে গেছে বাঙালি। একদা শিক্ষা সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে অগ্রগন্য পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে মা সরস্বতীর পরিবর্তে আজকাল পূজিতা হচ্ছেন মা লক্ষ্মী। স্বঘোষিত সততার প্রতীক বলে দাবি করা মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত সততার নন্দন কাননে সস্নেহে লালিত হচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের মত অসংখ্য আগাছা, অথচ মুখ্যমন্ত্রী নাকি কিছুই জানতেন না। হাস্যকর। যাইহোক আজকের এই কর্কশ বিদায় ঘন্টা নিশ্চিত ভাবেই প্রবিষ্ট হচ্ছে মাননীয়ার কর্নকুহরে, যা তাঁকে নিশ্চিত ভাবেই দংশন করবে প্রতিনিয়ত অনুক্ষণ। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত গগনভেদী বজ্রনির্ঘোষ অনুরণিত হবে আজীবন। তাই তো ভয় পাচ্ছেন, ভীষণ ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক অদ্ভুত অব্যক্ত আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। তাঁর বড়ই সাধের মুখ্যমন্ত্রীর নীল সাদা তোয়ালে জড়ানো গদি খোয়ানোর আতঙ্ক। কারণ আজকের পর থেকে দেওয়াল লিখনটা ক্রমশ আরও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে। তাই তো সুপরিকল্পিত ভাবেই লেলিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের ক্যাডারে পরিণত হওয়া পুলিশের একাংশকে। কিন্ত প্রশ্ন একটাই, এভাবে কী আদৌ গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করা যায়, ম্যাডাম? সম্ভব কখনো? আছে কোনও প্রমাণ? বরঞ্চ এ ধরনের মতিভ্রম উল্টে আপনার বিড়ম্বনা আরও অনেকটা বাড়িয়ে তুলল, যার প্রমাণ আপনি অনতিবিলম্বেই স্বচক্ষে চাক্ষুষ করবেন।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, স্বৈরতন্ত্রের বিভিষীকাময় পতন দেখে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করি। আপনার অহঙ্কার, আপনার দম্ভ, আপনার ভাষা সন্ত্রাসবাদ, আপনার পতন কে ত্বরান্বিত করবে, তা আপনি নিজেও বিলক্ষণ বোঝেন। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষেরও এ বিষয়ে সংশয়ের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। তবে, যেভাবে আপনি বাঙালির কৌলিণ্য, বাঙালীর অস্মিতা, বাঙালির আত্মশ্লাঘাকে বারেবারে ভূলুন্ঠিত ও পদদলিত করেছেন, ইতিহাস আপনাকে কদাপি ক্ষমা করবে না, একথা হলফ করে বলতে পারি।

উপসংহারে বলব, যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের অগণিত পরিবর্তনকামী মানুষ আজ বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দের সঙ্গে পায়ে পা মেলালেন তাতে অনতিবিলম্বেই রাজ্য রাজনীতিতে আরও একটি পরিবর্তনের দুর্মর আশাবাদ ব্যক্ত করা যেতেই পারে।

এ লড়াই তোমার আমার, সবার স্বপন সফল করার
এ লড়াই তোমার আমার, এ লড়াই সর্বহারার।।
এ লড়াই দিন মজুরের, এ লড়াই ক্ষেতের চাষির
এ লড়াই শতাব্দীকাল বঞ্ছিত সব বিশ্ববাসীর।।
(মতামত লেখকের নিজস্ব, এরজন্য আমাদের ভারত দায়ি নয়।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *