সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ জুলাই: স্বাধীনতা লাভের সাত দশক পর এই প্ৰথম কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰীসভায় স্থান হল বাঁকুড়ার। জেলাজুড়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশীর হাওয়া। বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰীসভায় স্থান পাচ্ছেন এই খবর জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার থেকেই সাধারণ মানুষ থেকে বিদগ্ধ মহলে জোরদার চৰ্চা শুরু হয়ে যায়।
বাঁকুড়া জেলায় দুটি সাংসদ আসন থাকলেও কোনও সাংসদই কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰীসভায় স্থান পাননি। এর পূৰ্বে সিপিএম সাংসদ শুধুমাত্র রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সন হয়েছিলেন। ডাঃ সুভাষ সরকারের মন্ত্ৰীত্ব প্ৰাপ্তিতে খুশী বাঁকুড়ার মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন। অবহেলিত বাঁকুড়ার এবার হয়ত কিছু্ উন্নতি হবে। বিশেষ করে গন্ধেশ্বরী সেতু, বহু প্ৰতিক্ষীত গন্ধেশ্বরী দ্বারকেশ্বর জল প্ৰকল্প, বিডিআর রেলপথে বাঁকুড়ার সাথে হাওড়ার সরাসরি যোগ সহ বিভিন্ন প্ৰকল্পের বাস্তবায়ণ ঘটবে।
বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্ৰের বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী দানা বলেন, সারা বাঁকুড়াবাসী আনন্দিত। সুভাষ বাবু আমার এলাকার অধিবাসী, সেই হিসাবে আমি গৰ্বিত। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও জেলা প্ৰেস ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ ভট্টাচার্য বলেন, এটা বাঁকুড়া জেলার খুশীর খবর। এই প্ৰথম বাঁকুড়ার বড় প্ৰাপ্তি। সুভাষ বাবু নিৰ্বাচনী প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছিলেন গন্ধেশ্বরী সেতু নিৰ্মাণের কাজ, দ্বারকেশ্বর নদীবাঁধ প্ৰকল্প বাস্তবায়ণে তিনি ভূমিকা নেবেন। ইতিমধ্যেই তিনি বিষয়টি সংসদে তোলেন। এছাড়াও বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ডাকটিকিট প্ৰকাশের জন্য জেলা প্ৰেসক্লাবের পক্ষ থেকে কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হলেও তা প্ৰকাশ হয়নি। সন্তোষ বাবু আশা প্ৰকাশ করে বলেন, জেলার সাংসদ হিসাবে মন্ত্ৰী সুভাষবাবু এই বিষয়ে উদ্যেগ নেবেন।

বিশিষ্ট শিক্ষক সূৰ্যরতন গণ বলেন, মোদী সরকার
বাঁকুড়াকে সম্মান জানালো।আমরা সবাই খুশী। খুশী হকার থেকে রিক্সাচালকও।রিক্সাচালক চন্দন দাস বলেন, সুভাষ বাবুকে মন্ত্ৰী পদ দিয়ে ভালো কাজ করেছেন মোদী। বাঁকুড়ার উন্নতি হবে এবার।
অপরদিকে সুভাষবাবুর মন্ত্ৰীত্ব প্ৰাপ্তিতে খুশী নন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জেলা মুখপাত্র দিলীপ আগরওয়াল বলেন, সুভাষবাবু সাংসদ হয়ে বাঁকুড়ার জন্য কিছু্ করতে পারেননি। আর শিক্ষা প্ৰতিমন্ত্ৰী হয়ে তিনি কি উন্নতি করবেন। তিনি বলেন, সুভাষ বাবুকে শিক্ষা প্ৰতিমন্ত্ৰী করা হল কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে? আমি প্ৰধানমন্ত্ৰীর কাছে জানতে চাই। আসলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেল সব ক্ষেত্ৰেই কেন্দ্ৰীয় সরকার ব্যাৰ্থ, তাই মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতে এবং নিজেদের ব্যৰ্থতা ঢাকতে এক যোগে ১২ জন মন্ত্ৰীকে সরিয়ে নতুন মন্ত্ৰী করা হল।

