নিম্নচাপের বৃষ্টির জন্য কপালে চিন্তার ভাঁজ পুজো উদ্যোক্তা থেকে প্যান্ডেল শিল্পীদের

প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর: পুজোর আর বাকি হাতে গোনা মাত্র কিটা দিন। তার আগেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ও পুজোর মুখে গভীর নিন্মচাপের জেরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কখনো রোদের দেখা মিললেও ক্ষানিক পরেই ফের আকাশের মুখ ভার করে নামছে বৃষ্টি। আর এই অকাল বৃষ্টিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুজো উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ মানুষের।
রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নিলেও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকা ও দক্ষিণবঙ্গের ওপর প্রবল বৃষ্টি লেগেই আছে। মাঝে মঙ্গলবার থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছিল রাজ্যে। এখন বৃষ্টির দাপট কমলেও সম্পূর্ণ ভাবে শরতের আকাশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অসময়ে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তা থেকে শিল্পীরা। ছোট বড় পুজো কমিটিগুলো, প্যান্ডেল শিল্পী থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তারা চিন্তায় প্রহর গুনছেন।

করোনার কারণে এমনিতেই বড় বাজেটের পুজোর সংখ্যা এবার অনেক কম। ফলে প্যান্ডেল শিল্পীরা সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে হাতে গোনা কাজ আর সেগুলি ও বৃষ্টির কারণে সম্পন্ন না হলে মিলবে না অর্থ। দুর্গা পুজোর আগে প্রতিবছর উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বড় বড় থিমের পুজোর প্যান্ডেল ও মণ্ডপ সজ্জার কাজ করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বেশি রোজগারের তাগিদে। কিন্তু এই বছর সেই বিগ বাজেটের দুর্গা পূজা না হলেও যে কটি পুজো হচ্ছে সেগুলির মণ্ডপ ও প্যান্ডেল বানানোর কাজ বৃষ্টির জন্য ঠিক ভাবে সম্পন্ন না হলে চুক্তি অনুযায়ী নাও মিলতে পারে বরাদ্দ অর্থ। তাই যথেষ্ট চিন্তায় ওই সমস্ত প্যান্ডেল শিল্পীরা। কারণ চরম ব্যস্ততার মধ্যেও লক্ষ টাকার প্যান্ডেলের প্রজেক্ট নির্মাণ করতে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বার বার। বিশাল মাপের প্লাস্টিক পলিথিনে মুড়ে ফেলা হয়েছে প্যান্ডেল গুলিকে। অপর দিকে পুজো উদ্যোক্তাদেরও চিন্তা যে তারা দর্শকদের কে তাদের পরিকল্পনা মত পুজো মণ্ডপ উপহার দিতে পারবেন কি না।

এদিন প্যান্ডেল শিল্পীরা বলেন, “আমরা অন্য জেলা থেকে এসেছি প্যান্ডেল বানানো জন্য। এটাই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এই বছর খুবই সমস্যায় আছি আমরা। একদিকে করোনা কালে বিগ বাজেটের পুজো তেমন না হওয়ায় বরাত কম আর আমাদের আয়ও কমে গেছে। তার ওপর বৃষ্টি আমাদের আরও সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে। আমরা কাজ সময় মত সম্পন্ন না করলে আমাদের অনেক টাকা লস হবে।”

তবে এই বৃষ্টি কবে সম্পূর্ণ থামবে তার দিকেই চেয়ে আছেন পুজো উদ্যোক্তা ও মণ্ডপ শিল্পীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *