কুমারেশ রায়, মেদিনীপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর:
ফি দিতে না পারায় বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার! পরে আস্ত একটা বিদ্যালয়ের বিল্ডিং তৈরি করেছিলেন সেই ছাত্র! তাঁর মৃত্যু দিনে জয়রামচকে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করলেন স্ত্রী।
২০২০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন দাসপুর-২ ব্লকের জয়রামচক গ্রামের বাসিন্দা অমরনাথ মাইতি। তাই আজকের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ওনার আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে স্মরণ সভা ও দুস্থদের বস্ত্র বিতরণ করলেন স্ত্রী রেনুকা বালা মাইতি। এদিন ওই এলাকার ৪০জন দুস্থ মানুষকে বস্ত্র দেওয়া হয়েছে।
অমরনাথ মাইতি ছাত্র ছাত্রীদের পঠন পাঠনের জন্য আস্ত একটা বিদ্যালয় বিল্ডিং তৈরি করে দিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তাঁর অবদান রয়েছে। কেন এই বিদ্যালয়ের বিল্ডিং তৈরি? এর পিছনেও রয়েছে এক কাহিনী। এক সময় আর্থিক অনটনের কারণে বিদ্যালয়ের ফি দিতে না পারায় বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল তাঁকে। আর সেদিন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যদি কোনও দিন আর্থিক ভাবে নিজেকে উন্নত করতে পারেন, তাহলে অর্থের অভাবে কাউকে আর পড়াশুনা বন্ধ করতে হবে না। এর পরেই তিনি কলকাতার কোলেমার্কেটে ১২বছর বয়স থেকেই কাজে নেমে পড়েন।
প্রথমে একটি দোকানের কাজে যোগ দেন। প্রায় ১২ বছর পরে শুরু হয় নিজের ব্যাবসা। আর তখন থেকেই নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেন তিনি, এর পরেই নিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন। পাঁচগেছিয়া গ্রামে স্বর্গীয় রাধেশ্যাম রাউত এর জায়গায় তৈরি করেন বিদ্যালয়ের বিল্ডিং। বর্তমানে সেই বিদ্যালয়ের নাম ‘পাঁচগেছিয়া জয়রামচক গোষ্ঠ বিহারী বিদ্যাপীঠ’। এমনই অনেক কর্মকান্ডে জড়িয়ে রয়েছে ওনার দান। তাই ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২১ স্বর্গীয় অমর নাথ মাইতির স্মরণ সভাতে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত গ্রাম সহ অন্যান্য গ্রামের একাধিক মানুষজন।

