স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৫ ডিসেম্বর: ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২ টা। গির্জা গির্জায় শুরু হয়ে যায় প্রার্থনা। ক্যারোলের সুরের মূর্ছনা ও জিঙ্গেল বেল জানান দেয় বড়দিন উৎসবের। কথিত আছে এই দিনেই জন্মগ্রহন করেছিলেন যিশু খ্রিস্ট। সেই দিনটিকেই সামনে রেখে বড়দিন উৎসবে মেতে উঠেছে বিশ্ববাসী। একই ছবি রায়গঞ্জ শহরেও।
প্রতিবছরই ২৪শে ডিসেম্বর গভীর রাতে ঘড়িতে ১২ টা বাজতেই স্যান্টার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত। উপহার নিয়ে তিনি পৌছে যান অসহায় গরিব-দুঃস্থ সাধারণ মানুষদের কাছে। সেই উপহার হল শীতবস্ত্র। প্রতিবছরের মত এবারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। শনিবার গভীর রাতে শীতবস্ত্র নিয়ে রায়গঞ্জের রাস্তায় বেড়িয়ে পড়েন মোহিতবাবু। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহকর্মীরাও।

এদিন শহরের রাস্তার দুপাশে, পাড়ার মোড়ে কিংবা স্টেশন চত্বরে থাকা ভবঘুরেদের হাতে তুলে দিলেন শীতবস্ত্র। “মানুষ মানুষের জন্য” এই ভাবনাকে সামনে রেখে প্রত্যেকের হাতে শীতবস্ত্র, কেক ও জলের বোতল তুলে দেন তিনি। মোহিতবাবু বলেন, ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিন উৎসব মানে যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন৷ এই দিনটি সকলের কাছে বড় আবেগের দিন। তৃপ্তির দিন। রাস্তার ধারে যারা রাত কাটান, প্রবল শীতে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। তাই তাদের শীত কাটাতে এবং হাজারো কষ্টের মাঝে বড়দিনের উৎসবে সামিল করানোর জন্যই প্রতিবছর এই উদ্যোগ নেন তিনি। ভবঘুরে কিংবা ফুটপাথবাসীদের পাশাপাশি গভীর রাতে ডিউটিরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতের এই উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
শীতের রাতে কম্বল ও কেক পেয়ে যথেষ্টই খুশী সাধারন মানুষ। মোহিতবাবুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

