বোলপুরে তৃণমূল অফিসেই চাকরি দেওয়ার প্রতারক! টাকা দিয়ে অসহায় চারজন

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৬ আগস্ট: তৃণমূলের বোলপুর অফিসের মধ্যেই পরিচয় হয় প্রতারকের সঙ্গে। চাকরি দেওয়ার শর্তে তিন প্রতারককে দেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। পরে ভুয়ো নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরেই টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টে জেল খাটতে হয় মামা ও দুই ভাগ্নেকে। বাধ্য হয়ে বিষয়টি রামপুরহাট মহকুমা শাসককে লিখিতভাবে জানালেন মামা আবু বাক্কার শেখ।

অভিযোগকারী আবু বাক্কার শেখ বীরভূমের পাইকর থানার হিয়াতনগর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূলের পতাকা ধরেন। সেই সূত্রে মাঝে মধ্যেই বোলপুরে তৃণমূল অফিসে যাতায়াত করতেন। তৃণমূলের অফিসেই পরিচয় হয় বোলপুর থানার সিয়ান গ্রামের বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া এবং তার ছেলে গোলাম এসাহাক (রাজ)। তাদের মাধ্যমেই পরিচয় হয় লাভপুরের বাসিন্দা আনাই শেখের সঙ্গে। তারা চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই মতো চারজনের চাকরির জন্য ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর ২৪,৩০,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এরপরেই মোবাইলে দুটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের প্যাডে এবং দুটি কলকাতা পুলিশ কমিশনারের প্যাডে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় নিয়োগপত্র ভুয়ো।

এরপর ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে বোলপুর মহকুমা শাসকের কাছে ডেকে পাঠিয়ে পুলিশ দিয়ে মামা ও দুই ভাগ্নেকে গ্রেফতার করানো হয়। দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পান। এরপরেই সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে পাইকর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার আধিকারিকরা সমস্ত কাগজপত্র নিলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন আবু বাক্কার। তিনি বলেন, “আমি তৃণমূল করার সুবাদে বোলপুর পার্টি অফিসে যাতায়াত করতাম। পার্টি অফিসে অভিযুক্তদের ওঠাবসা দেখে বিশ্বাস জন্মেছিল। তাই চাকরির নামে টাকা দিয়েছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে উল্টে আমাদের জেলে ঢুকিয়ে দিল। বিষয়টি অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ শেখ ওমরকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পাইকর থানাও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এবার রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলাম”।

রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সাদ্দাম বাভাস বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *