আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৩ মার্চ : ভোটের দামামা বাজতেই অজ্ঞাতবাস থেকে স্বমহিমায় লাভপুরের মাটিতে ফিরলেন প্রাক্তন বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। সোমবার স্বপুত্র নিজের দাঁড়কার বাড়িতে ফিরলেন প্রায় পাঁচ বছর পর। ঘরে ফিরতেই তাকে ঘিরে উন্মাদনা গ্রামবাসী থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, মণিরুল ইসলাম ২০১০ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতে লাভপুরের বিধায়ক হন তিনি। ২০১৯ সালে দিল্লিতে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপির টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লাভপুরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সোমবার লাভপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি নাম না করে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও পিছপা হননি।
যদিও বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা বলেন, ‘ওনাকে আমাদের হয়ে কে প্রচারে নামতে বলেছেন জানি না। মণিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ২০১৯ সাল থেকে বিজেপিতে আছি। সেইজন্য দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে প্রচারে নেমেছি।’
অভিজিৎ সিংহ বলেন, “মণিরুল ভোট পাখি। ভোট এলে অনেকে এসে এমন নানা কথা বলেন। এর কোনও উত্তর হয় না। মণিরুলের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। মানুষই জবাব দেবেন”।
এদিন জন্মভূমিতে পা দিয়েই সেই পুরনো মেজাজেই খেলা শুরু করেন। দক্ষ রাজনীতিবিদ এসেই তার এককালের গুরু তৃণমূলের অনুব্রত মণ্ডলকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘শুনেছি কেষ্টদা প্রকাশ্য সভায় এসে এখানেই বলে গিয়েছেন এই লাঘাটা সেতু, গুনুটিয়ার ঘাট তার পরিকল্পনায় হয়েছে। তার কৃতিত্ব নিতে চাইছে বৰ্তমান বিধায়কও।
সংখ্যালঘু বিজেপি নেতা মণিরুল ইসলাম জানান, এবার সরকার বদল হলেই সংখ্যালঘুরা বুঝতে পারবেন তৃণমূল শুধুমাত্র তাদের ভোটার করে রেখেছিল। তাঁর দাবি, গুজরাটে বিজেপি সরকার। সেখানে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছে মুসলমানরা। উত্তরপ্রদেশ দেখুন। লাভপুরে রাজ্যের মধ্যে রেকর্ড ভোট বিজেপিকে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে মুসলিমরা। কারণ শুধু নিজের সুবিধার জন্য কাউকে আর বিধায়ক করবে না লাভপুরের মানুষ। পরে নাম না করে মণিরুল ইসলাম বলেন, এখানে এতই সুবিধাবাদিতা চলছে দাদাকে বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে।
মণিরুল ইসলাম বলেন, “২০১৭ সালের পর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ১২ বার অপারেশন হয়েছে। তিনি বেঁচে ফিরবেন ভাবেননি। তবে যখন বেঁচেছেন তখন লাভপুরে ৫০ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝাকে জয়ী দেখতে চান। তাঁর দাবি, তিনি হাসপাতালের বেডে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে চারটে খুনের মামলা দিয়েছে পুলিশ। এখানকার মুসলিমদের একইভাবে মিথ্যা গাঁজা মামলায় কতজনকে জেল খাটিয়েছে। একজন তো মরেই গেল।”

