সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৭ সেপ্টেম্বর: অবশেষে পুরুলিয়ার সূচ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হল মূল অভিযুক্ত সনাতন গোস্বামী ফে ঠাকুর ও মৃত শিশুর মা মঙ্গলা। আজ অভিযুক্ত দুই জনকে পুরুলিয়া জেলা আদালতের হাজির করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (দ্বিতীয় তল) রমেশ কুমার প্রধান সাড়ে তিন বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগে তাদের দোষী ঘোষণা করেন। ভারতীয় দণ্ড বিধির ৩০২, ৩৪ এবং ১২০ বি ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন বলে জানান সরকার পক্ষের আইনজীবী আনোয়ার আলী আনসারি।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে পুরুলিয়ার মফঃস্বল থানার নদীয়াড়া গ্রামের ঘটনা। অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড সনাতন গোস্বামীর বাড়িতে কাজ করত স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা মঙ্গলা। সেখানে তার সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাও থাকত। ২০১৭ -র ১২ জুলাই সন্ধ্যেয় শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় জেলার দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে ভর্তি করে শিশুর মা এবং সনাতন ঠাকুর নামে ওই গৃহস্থের মালিক। শিশুর চিকিৎসা করতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন শিশুর গোটা শরীরের বিভিন্ন স্থানে সূচ ফোটানোর চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের চিহ্ন যৌনাঙ্গে, বুকে ক্ষতের চিহ্ন। চোখে মুখে ক্ষতের দাগ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
১৪ জুলাই চাইল্ড লাইনের পক্ষ থেকে জেলা কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর সরকার পুরুলিয়ার মফঃসল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার মধ্যেই ফেরার হয়ে যায় অন্যতম অভিযুক্ত সনাতন। ২১ জুলাই কলকাতায় চিকিৎসারত শিশুটির মৃত্যু হয়। পর দিন ২২ জুলাই মফঃস্বল থানার পুলিশ মঙ্গলাকে গ্রেফতার করে। উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র থানার পিপলি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত সনাতন গোস্বামীকে ২৯ জুলাই গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। ওই দলে নেতৃত্ব দেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক গোপাল মান।

নির্মম এই শিশু হত্যার ঘটনায় রাজ্যে প্রভাব পড়ে। সোরগোল পড়ে যায়। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনি লড়াই করবেন না বলে ঘোষণা করেন পুরুলিয়ার আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির হতক্ষেপে ওই মামলার অভিযুক্তদের আইনজীবী হন শেখর বোস। আজ তিনি জানান, “আজ বিচারক অভিযুক্ত দুই জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। চলতি মাসের ২০ তারিখ ফের আদালতে সাজা ঘোষণার দিন ধার্য হয়।” আজ আদালতে তোলার আগে সনাতন খোশ মেজাজে থাকলেও মঙ্গলা কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে নিজেকে নির্দোষ বলে চিৎকার করে।

