সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৪ ফেব্রুয়ারি: দলে থেকে দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভাই ও মেয়েকে দাঁড় করিয়ে নিজে তৃণমূল কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি আমাকে মারার চেষ্টা করছে। নির্বাচনী প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই অভিযোগ করলেন বনগাঁর প্রাক্তন প্রশাসক তথা তৃণমূলের প্রার্থী গোপাল শেঠ।
বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌর ভোটের নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন সায়নী ঘোষ। সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনগাঁ পৌরসভার প্রাক্তন প্রশাসক গোপাল শেঠ, নাম না করে প্রাক্তন পৌর প্রশাসক শংকর আঢ্যের বিরুদ্ধে এক রাশ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, আমাকে মারার চক্রান্ত হচ্ছে। আমি মারা গেলে বুকের উপরে তৃণমূলের পতাকা দেবেন। সবাই মিলে আমাকে শ্মশানে নিয়ে যাবেন। আমার বাবা শান্তি পাবে। বলবে, আমি মানুষের জন্য মরতে পেরেছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পেরেছি। তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন, দলে থেকে দলের সঙ্গে গাদ্দারি করছেন। নিজের ভাইকে আমার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। পার্টিতে নাম লিখিয়ে ভাবছেন আমি পার্টির ভিতরে আছি, এরকম হতে দেব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব দেখছেন। আমরা চাই বনগাঁয় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হোক। সন্ত্রাস হতে দেব না।

এই মঞ্চ থেকে বর্তমান বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস নাম না করে প্রাক্তন পৌর প্রশাসকের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেছেন বিগত দিনে এখানে একজন অপদার্থ পৌর প্রশাসক ছিল। এছাড়া একাধিক নেতা এই মঞ্চ থেকে প্রাক্তন পৌর প্রশাসকের নাম না করে তার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
যদিও বনগাঁর প্রাক্তন পৌর প্রশাসক শংকর আঢ্য বলেন তিনি মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। হেরে যাওয়ার ভয়ে এইসব বলছেন। এরকম নৃশংস উনি হতে পারেন। আমার স্ত্রী তাকে একদিন হলেও ভাইফোঁটা দিয়েছেন। আত্মীয়তা আমরা রক্ষা করি। ওনার যদি কিছু হতে হয় আর তার আগে যদি আমার বুকে আঘাত করে, তারপর উনার উপরেও আঘাত যাবে। মানুষ ভোট দিক, যাকে কর্মীরা চাইবে সে জিতবে।
এই বিষয়ে বিজেপি কটাক্ষ করে বলেছেন, এটা তৃণমূলের নিজেদের দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।

