ছবি: জিতেন্দ্র তেওয়ারীর সঙ্গে তোপা বাদ্যকর
জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৬ এপ্রিল: রাজ্যজুড়ে নির্বাচন ঘিরে হিংসার রাজনীতি প্রায়ই দেখা যায়। মারপিট, খুনোখুনি, হিংসা সন্ত্রাস লেগেই থাকে। অন্যদিকে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের নজির রাখল পান্ডবেশ্বরের কেন্দ্রা এলাকায়। তৃণমূল- বিজেপির বুথ পাশাপাশি বসেছে। বিজেপি প্রার্থীকে কাছে পেয়ে নিজেদের শিবির থেকে উঠে রীতিমতো পা ছুঁয়ে প্রনাম করলেন স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। মতাদর্শ আলাদা থাকতেই পারে। গণতন্ত্রে এটাই মডেল হওয়া উচিত। বললেন বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী।
এবারে নির্বাচনে লাড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির। রাজনীতিতে দুদলই এখন মতাদর্শগত ভাবে দুই ভিন্ন মেরুতে। গত কয়েকমাস ধরে চলছে কাদা ছোড়াছোড়ি। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। সব মিলিয়ে যেমন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তেমনই গত ৬ দফা নির্বাচনে হিংসার ঘটনাও ঘটেছে। ঘটেছে প্রানহানিও। মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত আক্রমনের নিশানায় বিজেপি। তবে সোমবার রাজ্যের সপ্তম দফা নির্বাচনে এক বিরল ঘটনার সাক্ষী রইল শিল্পাঞ্চলের পান্ডবেশ্বর বিধানসভার কেন্দ্রা কোলিয়ারী এলাকা। কেন্দ্রা পঞ্চায়েতের ৪ নং সংসদের ভোট গ্রহন কেন্দ্রের বাইরে দুই পরস্পর বিরোধী তৃণমূল ও বিজেপির পাশাপাশি শিবির। রাজনীতিতে বিরোধ আছে। কিন্তু ভোটেরদিন নিজেদের মধ্যে কোনও বিবাদ, হিংসা নেই। পাশাপাশি দুটো শিবিরে নিজের মত করে চলছে ভোটারদের বুথ স্লিপ দেওয়ার কাজ। নিজেদের কাজের ফাঁকে দুই শিবিরে কর্মীদের মধ্যে চলছে খোশ মেজাজে গল্প, আড্ডা। রাজ্যজুড়ে যখন রাজনীতির হিংসায় তপ্ত, তখন কেন্দ্রা ৪ নং সংসদ এলাকায় নির্বেঘ্নে, শান্তিতে চলেছে ভোটদান।
শুধু তাই নয়, বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী ওই এলাকায় পৌঁছতেই দুই শিবিরের কর্মীরা যেন এক হয়ে গেল। নিজের শিবির ছেড়ে উঠে এলেন তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা তোপা বাদ্যকর। জিতেন্দ্র তেওয়ারীর পা ছুঁয়ে প্রণামও করলেন তোপাদেবী। দলীয়কর্মীদের পাশাপাশি তোপাদেবীর কাছেও খোঁজ খবর নিলেন জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তোপাদেবী জানান, “ভোট আসবে চলে যাবে। পাশাপাশি বুথ। ভোটের পর আবারও সম্পর্ক অটুট থাকে। সকলে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকে।”
বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “ভোট আসবে চলে যাবে। পাশাপাশি বুথ বসিয়েছে। যে যার মত নিজেদের কাজ করছে। একসঙ্গে সবাই থাকবে। ভোটে গ্রামে নিজেদের সম্পর্ক নষ্ট করে না।” তোপা বাদ্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” তোপা ছোট বোনের মতো। প্রতিবছর ভাইফোঁটা দেয়। ভোটের মধ্যে গ্রামে কোনও বিভাজন আসবে না। কেন্দ্রা গ্রামের এটাই বাংলার গণতন্ত্রের মডেল হওয়া উচিত।”

