কোভিড পরিস্থিতিতেও মা হারা বাঘ ও হরিণ শাবককে বাঁচিয়ে তুললেন দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুর্নবাসন কেন্দ্রের বন কর্মীরা

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ২৯ এপ্রিল: কোভিড পরিস্থিতিতেও বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে বরাবরের মতই নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুর্নবাসন কেন্দ্র। কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নতুন জীবন দেওয়া হল জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মা হারা একটি চিতাবাঘ শাবক এবং একটি বিরল হগ ডিয়ার প্রজাতির হরিণ শাবককে। জানাগেছে, চিতাবাঘ শাবকটির বয়স চার মাসের একটু বেশি। আর হগ ডিয়ারের ছানাটির বয়স মাত্র আড়াই মাস।

উল্লেখ্য, চা-বাগানের ঝোঁপে শাবকটিকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল মা চিতা। এরপর সেটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ির গরুমারা থেকে মাত্র ১৫দিন আগেই মা হারা চিতাবাঘের শাবকটি নিয়ে আসা হয়েছে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। অন্যদিকে মা-হারা হগ ডিয়ারের শাবকটিকেও মাত্র ৩দিন বয়সে খুঁজে পেয়েছিল জঙ্গলে টহলরত বনকর্মীরা। উল্লেখ্য, মা হারা কোনও বন্যপ্রানীর শাবক উদ্ধার হলে তাকে বাঁচিয়ে তোলাটা বরাবরই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বনকর্মীদের কাছে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষিণ খয়েরবাড়ির রেকর্ড যথেষ্টই ঈর্ষনীয়। তা অতীতের শচীন, সৌরভের মত চিতাবাঘই হোক বা অনান্য বন্যপ্রানীই হোক।কার্যত এখানকার বনকর্মীরা সব ভুলে গিয়ে দিনরাত লেগে থাকেন উদ্ধার হওয়া বনপ্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতে। তেমনি এবারের ঘটনাটাও যথেষ্ট তাতপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে এত ছোট হগ ডিয়ার শাবককে বাঁচিয়ে তোলার তেমন নজির নেই রাজ্যে। দক্ষিণ খয়েরবাড়ির অন্যতম পার্থসারথি সিনহা জানান,“মূলত দুটি কারণে মা লেপার্ড তার শাবককে ছেড়ে দেয়। যদি মা বুঝতে পারে তার শাবকটি দুর্বল, শারিরীকভাবে অসুস্থ অথবা চা-বাগানে মানুষের অসেচতনতার জন্য বাচ্চাকে ফেলে পালিয়ে যায় মা চিতা। স্বাভাভিকভাবেই দুটি শাবকের উপর প্রথম দিন থেকে ২৪ ঘন্টা পালা করে নজর রাখতে হয় আমাদের।”

জানা গেছে, আপাতত চিতা শাবকটিকে ওজনের অনুপাতে দিনে হাড় ছাড়া মুরগির মাংস দেওয়া হচ্ছে। ৬ মাস বয়স হলে তারপর তাকে হাড়যুক্ত মাংস দেওয়া হবে। আর হরিন ছানাটিও ইরিমধ্যে কচি ঘাস,পাতা খেতে শুরু করেছে। জলদাপাড়ার ডিএফও দীপক এম জানান,“চিতাবাঘ শাবক ও হগ ডিয়ার দুটি সুস্থ, স্বাভাবিক রয়েছে। দুটি প্রাণীকেই বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে। তবুও সবসময় নজর রাখা হচ্ছে। হরিনটি একটি নির্দিষ্ট বয়সে পৌছালে তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, এইমুহুর্তে দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে ২১টি চিতাবাঘ রয়েছে। এশিয়ার বৃহত্তম লেপার্ড সাফারি নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ। খুব দ্রুত বেশ কিছু নতুন বন্যপ্রাণী আসবার কথা রয়েছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *