বাঘ দিবসে বন দফতর ও ডাক বিভাগের বিশেষ কভার উন্মোচন

আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: “বন্যেরা বনে সুন্দর” এই কথাকে মাথায় রেখে ভারতে শুরু হয়েছিল ব্যাঘ্র প্রকল্প। তারপর থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন দফতর পালন করে এসেছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস।

এবছর এই দিনে ভারতীয় ডাক বিভাগের সাথে হাত মিলিয়ে বাঘেদের নিজস্ব পরিবেশে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ কভার উন্মোচন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন দফতর। বন দফতরের প্রিন্সিপাল চিফ কন্সারভেটর ডঃ জোস ম্যাথিউ এবং ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের মুখ্য পোস্ট মাস্টার জেনারেল শ্রীমতি জে চারুকেশী এই বিশেষ কভারের উন্মোচন করেন।

একই সাথে সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ছটি ছবির পোস্টকার্ড ও এই দিন উপলক্ষে বিশেষ ক্যান্সেলেশন উন্মোচন করে ভারতীয় ডাক বিভাগ। এছাড়াও বাঘ ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন সময়ে স্ট্যাম্প উন্মোচন করেছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। ডাক বিভাগের সেই সকল স্ট্যাম্প নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ বই। এদিন সেটিরও উন্মোচন করেন মুখ্য পোস্টমাস্টার জেনারেল শ্রীমতি জে চারুকেশী।

তিনি বলেন, “দিন দিন এই বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে, যা খুবই চিন্তার বিষয়। বন দপ্তর প্রতিনিয়ত বাঘ সংরক্ষণের কাজ করে চলেছে। এই বিশেষ কভার তারই নিদর্শন।” এদিন ছোটদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ডাক বিভাগ আয়োজন করেছিল একটি বিশেষ এক্সিবিশন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল বিভিন্ন স্কুলকে। উপস্থিত ছিল উৎসাহী বহু ছাত্রছাত্রী। স্কটিশচার্চ হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র পুষ্পল দে বলেন, “আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে সিনেমায় বাঘের চামড়াকে দেখানো হয়, সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।” শ্রী দিগম্বর জৈন বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আশিকা সিং বলেন, “যে পরিমাণে বন জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে, তার জন্যই বাঘেরা লোকালয়ে এসে হানা দিচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর তাপস দাস। তিনি বলেন, প্রতিদিনই আমরা বাঘের সাথে ঘর করে চলেছি, আমাদের কাছে সব দিনই ব্যাঘ্র দিবস। এই একটি দিন আমরা আসি বাঘের প্রয়োজনীয়তা মানুষকে মনে করানোর জন্য। এই বছর অবধি সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ছিয়ানব্বইটি। এই বছর বাঘ গণনায় সেই সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *