আমাদের ভারত, ১১ ফেব্রুয়ারি:প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লায় তাণ্ডব চালানোর ঘটনায়ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন দীপ সিধু। পুলিশের দাবি তিনি স্বীকার করেছেন দেশে অশান্তি ছড়ানোর জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাঠানো হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ আজ ইকবাল সিং নামে লালকেল্লায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরো এক চক্রান্তকারীকে গ্রেফতার করেছে। এই ইকবালকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল দিল্লি পুলিশ। সূত্রের খবর যে সব সংগঠন বা ব্যক্তি ওই আন্দোলনের নামে দেশে ঝামেলা পাকানোর জন্য বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য পেয়েছেন তাদের অর্থের উৎস খুঁজে দেখছে এন আই এ।
প্রজাতন্ত্র দিবসে অশান্তি ছড়ানোর পেছনে অন্যতম চক্রি যে ইকবালসে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেদিন গন্ডগোল ছড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়েছে। তার একাধিক ভিডিও পুলিশের হাতে চলে এসেছে। সেই ভিডিওগুলোর একটিতে দেখা যাচ্ছে দিল্লি লাহোর গেটের কাছে জমায়েত হওয়া কৃষকদের লালকেল্লায় ঢোকার জন্য উস্কাচ্ছে ইকবাল। তাকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ইকবাল যদিও দাবি করেছে তিনি নির্দোষ। হিংসা ছড়াতে কখনোই তিনি দিল্লীতে আসেননি। এমনকি লালকেল্লাতেও যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। কিন্তু পৌঁছে যাওয়ার পর বেশ কিছু লাইভ ভিডিও তিনি আবেগের বশে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু তিনি কাউকে উস্কাননি। কিন্তু পুলিশের দাবি সেদিন লালকেল্লার তাণ্ডবের পেছনের অন্যতম দুই মাথা ছিল দীপ সিধু ও ইকবাল। ফলে এবার তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার কথা ভাবছেন তদন্তকারীরা।
কৃষক আন্দোলনে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের এনআইএ তদন্তের স্বার্থে ডেকে পাঠাচ্ছে কিনা তা জানতে চেয়ে রাজ্যসভায় প্রশ্ন করেছিলেন কংগ্রেসের দ্বিগবিজয় সিং। আজ তার জবাবে স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের ডেকে তদন্ত করা হচ্ছে না। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বলা হয় কৃষক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন খালিস্তানি সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস ভারতে নাশকতা ও ঝামেলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর জন্য বিদেশ থেকে বেআইনিভাবে বিভিন্ন সংগঠনকে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কৃষক আন্দোলনকে সামনে রেখে আসলে ভারতে অশান্তি সৃষ্টি করায় প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ সূত্রে খবর বিদেশ থেকে আসা অর্থের সুত্র জানতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বেশ কিছু ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা জন্য এনআইএ ডেকে পাঠিয়েছে। এরমধ্যে লোক ভালাই ইনসাফ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বালবির সিং সড় ২০ জন রয়েছে।এই তালিকায় রয়েছেন কৃষকনেতা ছাড়াও লেখক, সাংবাদিক ও বেশকিছু ব্যবসায়ী। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে যারা অর্থ সাহায্য পেয়েছেন তাদের অর্থের উৎস নিয়ে সংশয় দূর করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে এর মানে এটা নয় যে তারা সকলে সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। যেহেতু খালিস্তানি শক্তি ভারতে অশান্তি ছড়াতে চাইছে তাই বিদেশি অর্থসাহায্য কি কারণে এসেছে তা জানার জন্য তদন্তকারী সংস্থা তাদের ডাকছেন।

