নলহাটিতে সাতষট্টি বছর ধরে দ্বিতীয়ার ফোঁটা দেওয়া চলছে পূর্বপুরুষদের

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২৭ অক্টোবর: সতী সেনের বয়স আটষট্টি। সাতষট্টি বছর ধরে তাঁর দাদু শ্রী হরিরঞ্জন পালের ছবিতে ফোঁটা দিয়ে আসছেন তিনি। ভাতৃ দ্বিতীয়ায় অনেক পরিবারে দাদুকে নাতনিরা ফোঁটা দিয়ে থাকেন। কিন্তু মৃত দাদুর প্রতিকৃতিতে সাতষট্টি বছর ধরে ফোঁটা দেওয়া সচরাচর শোনা যায় না।

বীরভূমের আহমদপুর থেকে ভাইফোঁটায় বাপের বাড়ি নলহাটি থানার বারা গ্রামে এসেছেন তিনি। সতী সেন বলেন, নিজের পাঁচ ভাইয়ের পাশাপাশি, এক বছর বয়স থেকে আমার দাদুর প্রতিকৃতিতে ফোঁটা দিয়ে আসছি। তবে আগে দাদুকে ফোঁটা দেওয়া হয়। আমার বোন সুদেবী হালদার রামপুরহাটের নারায়ণপুর থেকে ফোঁটা দিতে এসেছেন।

সতী সেনের ভাই মহাদেব মণ্ডল বলেন, দুই দিদি দাদুর প্রতিকৃতিতে ফোঁটা দেন। আমাদের পাঁচ ভাইয়ের পাঁচ মেয়েরা আবার প্রয়াত বাবা রাজকুমার পালের প্রতিকৃতিতে ফোঁটা দেন। দাদু অনেক দিন আগেই মারা গেছেন। বাবা দুই হাজার তিন সালে মারা যান। আমাদের বাড়িতে এই প্রথা দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন। আগে প্রয়াত বাবা ও দাদুর প্রতিকৃতিতে ফোঁটা, মিষ্টি পায়েস দেওয়া হয়। তারপর বাড়ির সবার ফোঁটা হয়।

মৃত ব‍্যক্তিকে ফোঁটা দেওয়া প্রসঙ্গে মহাদেববাবু বলেন, এব‍্যাপারে শাস্ত্রের কোনো নির্দেশ নেই। পুরোটাই আবেগ। তাঁরা যে সাধন জগতে থাকুন না কেন, আমরা তাঁদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি তাঁরা এটা গ্রহণ করেন। আমরা তাঁদের বলতে চাই আমরা তাঁদের ভুলি নাই। সেই মুহূর্তে তাঁরা আমাদের কাছে জীবিত হয়ে ওঠেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *