আমাদের ভারত, ৬ সেপ্টেম্বর:
ঝাড়খন্ড বিধানসভার ভেতরে স্পিকার একটি ঘর নমাজের জন্য বরাদ্দ করেছেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে। পাল্টা দাবি করা হয়েছে হনুমান চালিশা পাঠের জন্যেও ঘর বরাদ্দ করতে হবে। এছাড়াও বিধানসভার অন্দরে মন্দির সহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরীর ঘোষণার দাবি করেছে পদ্ম শিবির।
সোমবার বিজেপি বিধায়কদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বিধানসভার বাইরে ও ভেতরে হইচই হয়, যার ফলে বিধানসভা অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতুবি করে দেন স্পিকার। হনুমান চালিশা হাতে বিধানসভায় আসেন পদ্ম বিধায়করা। বিধানসভার সিঁড়িতে বসে তাঁরা হনুমান চালিশা পাঠ করতে থাকেন। একই সঙ্গে জয় শ্রীরাম ধ্বনিও দিতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন ভগবানের নামের প্ল্যাকার্ড।
এরপর অধিবেশন শুরু হলেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়করা। নমাজের জন্য ঘর বরাদ্দের ঘোষণা স্পিকারকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। তুমুল হট্টগোলের কারণে সাময়িকভাবে মুলতুবি করে দেওয়া হয় অধিবেশন।
রাজ্য বিধানসভার নতুন ভবনে একটি রুমে নমাজ পড়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন স্পিকার। বিজেপি এর চূড়ান্ত বিরোধিতা করেছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, মুসলমানদের জন্য এত আয়োজন হলে হিন্দুদের হনুমান চালিশা পাঠের জন্য পৃথক ঘর থাকা প্রয়োজন। বিজেপি বিধায়করা স্পষ্ট বলেন, “যদি মুসলমানরা আলাদা ঘরের নমাজ পড়তে পারেন তাহলে হনুমান চালিশা পাঠ করার জন্য হিন্দুরা ঘর পাবেন না কেন? আমরা বিধানসভার সচিবের কাছে আর্জি জানাচ্ছি একটি বড় হল ও পাঁচটি ঘর হনুমান চালিশা পাঠের জন্য বরাদ্দ করা হোক।”
বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সিপি সিং জানিয়েছেন, তিনি নমাজ পড়ার বিরোধী নন, কিন্তু যদি নমাজ পড়ার ব্যবস্থা হয় তাহলে সেখানে অবশ্যই হনুমান মন্দিরও তৈরি করতে হবে। বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি কথায়, “বিধানসভা গণতন্ত্রের মন্দির হিসেবেই থাকা উচিত। নামাজ পড়ার জন্য ঘর বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ভুল। আমরা এর বিরোধিতা করছি।”

