কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালী মায়ের পুজোয় পাঁচ রকমের মাছ ও সবজি দিয়ে দেওয়া হয় ভোগ

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, ২২ অক্টোবর: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বয়রা কালী মায়ের পুজোতে শোল, বোয়াল সহ পাঁচ রকমের মাছ ও পাঁচ রকমের সবজি দিয়ে মায়ের ভোগ হয়। দীপাবলির আমাবস্যায় বয়রা কালী মায়ের পুজোকে ঘিরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে কালিয়াগঞ্জ শহরে। টিনের চালা আর বাঁশের বেড়ার মন্দির থেকে আজ বিশালাকার মন্দির তৈরি হয়েছে। মৃন্ময়ী মূর্তির বদলে মায়ের অষ্টধাতুর মূর্তি বসেছে। দীপাবলির রাতে দেবীর সারা অঙ্গজুড়ে থাকে সোনার অলঙ্কার। মানত পূরণ করতে হাজার হাজার ভক্ত আসেন পুজো দিতে এই বয়রা কালী মায়ের কাছে।

কথিত আছে, শ্রীমতি নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা আর বজরা নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে বাণিজ্য করতে আসতেন বণিকরা। নৌকা নোঙর করে বিশ্রাম নিতেন নদীর ধারে জঙ্গলাকীর্ণ অরণ্যে। সেখানেই বয়রা গাছের নীচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এক বণিক৷ দেবীর স্বপ্নাদেশ পান ওখানেই মূর্তি দিয়ে কালীপুজো করার৷ সেই বয়রা গাছের তলায় প্রথম পুজো শুরু হয় উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দির “বয়রা কালীবাড়ি”র পুজো। পরবর্তীতে কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দারা সেই জঙ্গল পরিস্কার করে তৈরি করে বাঁশ ও মাটির মায়ের মন্দির। এরপর ১৯৬২ সালে তৈরি হয় দেবীর নতুন মন্দির যা আজ বয়রা কালী মন্দির নামে বিখ্যাত।

মায়ের মূর্তিও হয় অষ্টধাতুর। দীপাবলির রাতের বয়রা কালী বাড়ির পুজোকে ঘিরে কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট সহ উত্তরবঙ্গের মানুষের আলাদা উন্মাদনা থাকে। কয়েক লক্ষ পূন্যার্থীর সমাগম ঘটে দীপাবলির রাতে। দুই-তিন হাজার পাঁঠাবলি হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে সরকারি বিধি মেনে সম্পূর্ণ রূপে বলি প্রথা বন্ধ আছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ দাবি করে এসেছে বলি প্রথা বন্ধ করতে। কারোও নিজের মনস্কামনা পুরনোর জন্য নিরীহ প্রাণীকে হত্যা করা ঠিক নয়। করোনা অতিমারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বলি প্রথা বন্ধ থাকায় পাশাপাশি বলি দেওয়ার লোকের অভাবকে কাজে লাগিয়ে সকলের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে মন্দির কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলিদান প্রথা বন্ধ করে দেওয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *