রাজেন রায়, কলকাতা, ২৪ আগস্ট: এর আগেও একাধিক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দেখেছেন শহরবাসী। কিন্তু মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনে পাঁচ শিক্ষিকা যে কাণ্ড ঘটালেন তা নজিরবিহীন বলা যেতেই পারে। বদলির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন পাঁচ জন শিক্ষিকা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর দেখা না পেয়ে পুলিশের সামনেই তারা বিষ খেয়ে নেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাদের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও পরে দুজনকে এনআরএস হাসপাতালে এবং তিনজনকে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গিয়েছে, ১৭ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী নিখোঁজ প্ল্যাকার্ড হাতে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভে ছিলেন এই শিক্ষিকারা। তারপরের দিনই নবান্ন সভাঘরের সামনেও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, এর পরই অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হয় ৫ শিক্ষিকাকে।

সেই নিয়ে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে আসেন। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয় তাদের। তারপরই পাঁচ শিক্ষিকা বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। শিক্ষিকাদের পাঁচজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিবাদে শামিল এক শিক্ষিকা অনিমা নাথ জানান, “আজ আমরা বিষ খেয়েছি সবাই। আমরা মরে যাব, আমরা বাঁচব না। আমি বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা। এ রাজ্যে কিছুই হওয়ার নেই আমাদের।”
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার শিক্ষিকা ফাজিলাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। মুর্শিদাবাদের অপর শিক্ষিকাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়িতে। জ্যোৎস্না টুডু নামে এক শিক্ষিকাকে মেদিনীপুর থেকে বদলি করা হয়েছে জলপাইগুড়িতে। শিখা দাসকে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বদলি করা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে বদলি করা হয়েছে। পুতুল মণ্ডল নামে এক শিক্ষিকাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে কেচাবিহারে বদলি করা হয়েছে। বৃত্তিমূলক শিক্ষিকাদের এই বদলি অনৈতিক বলে দাবি করছে শিক্ষক ঐক্যমঞ্চ।

