সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৪ নভেম্বর: প্রায় ১৩ ঘন্টা ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে আরও তর্থপ্রমাণ জোগাড় করল ইডি। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসায়ীর বাড়ি ও রাইস মিলে তাল্লাশি চালিয়ে পাঁচবস্তা নথি বাজায়াপ্ত করলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের সঙ্গে যোগ ছিল বনগাঁ রাইসমিলের মালিক মন্টু সাহার। স্থানীয় মানুষদের দাবি, প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রীর মদতেই এই চালকল থেকে রেশনের চাল ও আটা পাচার করা হত বাংলাদেশে।
ইডি সূত্রে দাবি, এই দুর্নীতির তদন্তে নেমে, তারা বাকিবুর রহমানের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তির কথা জানতে পারেন। যার মধ্যে ছিল তাঁর একাধিক সংস্থাও। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, ৬টি এমন সংস্থার কথা জানা যায়, যেখানে আটা বণ্টন দুর্নীতির টাকা ঢুকেছিল। এর মধ্যে একটি সংস্থা ছিল এনপিজি রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেড। এই সংস্থায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা ঢুকেছিল বলে তদন্তে জানা যায়।

সূত্রের খবর, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বাকিবুর রহমানের গ্রেফতারির পর খাদ্য দফতরের পোর্টালে এই সংস্থাকে হোল্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে প্রথমে ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইডি। সূত্রের খবর, জেরায় একাধিকবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উঠে আসে। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সূত্রে জ্যোতিপ্রিয়কে গ্রেফতার করে ইডি। উল্লেখ্য, নানা প্রান্তে আটা মিল, রাইস মিল ছাড়াও নানা সম্পত্তি রয়েছে বাকিবুরের, সে খবর আগেই পেয়েছে ইডি। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার নানা প্রান্তেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। নিউটাউনে রয়েছে তাঁর বাড়ি, ফ্ল্যাট। এছাড়াও ইডি মারফত পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে বালু ঘনিষ্ঠদের আটটি জেলায় জমি রয়েছে, নানা সম্পত্তি রয়েছে, বাড়ি রয়েছে। এরপরই তল্লাশি জোরদার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।
শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৬টা হবে। প্রায় কাকভোরে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থানার কালুপুরের রাধাকৃষ্ণ ফ্লাওয়ার মিলে হানা দেয় ইডি। ওই মিলের মালিক মন্টু সাহা এবং কালী সাহা। বনগাঁর কোরার বাগানের ব্যবসায়ীদের বাড়িতেও যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওই দুই ব্যবসায়ী প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, রাধাকৃষ্ণ ফ্লাওয়ার মিল থেকে রেশনে আটা এবং চাল যেত। তাই রেশন দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে ওই আটাকলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও দিনের শেষে একটি সাদা রঙের গাড়িতে দুই বস্তা নথি তুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারদের অভিযোগ, রেশনের চাল আটা চুরি করেই ক্ষান্ত থাকতেন না মিলের মালিক মন্টু সাহা এবং কালী সাহা, রেশনে দেওয়া আটায় ভুষি মিশিয়ে সেগুলিই রেশনের জন্য দেওয়া হতো। অভিযোগ, এক কেজি আটার প্যাকেটে প্রায় আড়াইশো গ্রাম ভুষি মিশিয়ে সেগুলিই রেশন ডিলারদের ঘরে পৌছে দিত। এর মুনাফা গোটাটাই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে পৌছে যেত। তার উপরে এই মিলে মজুত করা হতো রেশনের চাল। সেই চাল ঘোজাডাঙ্গা বর্ডার হয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হতো। একবার ১৪৪ ট্রাক চাল ধরাও পড়ে বিএসএফের হাতে। পুলিশ তা ধামা চাপা দেয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপি বাছার বলেন, দূষণ ছড়ানোর কারণে বেআইনি এই রাইসমিল বছর তিন আগেই এলাকার মানুষ বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রভাব খাটিয়ে তখনকার খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ফের চালু করেন। প্রতিদিন নামিদামি গাড়ি করে রাতে লোকজন আসত এই মিলে। যদিও গাড়ির মধ্যে কে বা কারা আসতেন তা জানা বা দেখার উপায় ছিল না। এদিন যে দু’বস্তা নথি উদ্ধার হলো সেই নথি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকে বিপাকে ফেলতে পাড়ে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

