আমাদের ভারত, ১৭ ফেব্রুয়ারি: স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশে কোনো মহিলাকে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। মথুরার জেলে সেই মহিলার ফাঁসির জন্য প্রস্তুতি চলছে। শবনম নামে এক মহিলার ফাঁসি দেওয়ার হবে। ফাঁসি দেবে সেই পবন জল্লাদ, যে নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসি দিয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশের একটিমাত্র ফাঁসির ঘর রয়েছে মথুরা জেলে। সেখানেই শবনমের ফাঁসির প্রস্তুতি চলছে। পবন জল্লাদ ইতিমধ্যে দু’বার ফাঁসিকাঠে পরীক্ষা করেছে। সুপ্রিম কোর্টে শবনমের ফাঁসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়েছে। শাবনামের ফাঁসির মুকুবের আবেদন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও খারিজ করেছেন। অপরাধের নৃশংসতার বিচার করে তিনিও ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। ফলে শাবনামের ফাঁসি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
মথুরা জেলে মহিলাদের ফাঁসি ঘরে শাবনামকে ফাঁসি দেওয়া হবে। বহুদিন ধরেই এই ঘরটি অব্যবহৃত।এমনকি ফাঁসি কাঠও এর আগে কখনো ব্যবহার হয়নি। ডেথ ওয়ারেন্ট জারি হলেই শবনমের নামে ওই মহিলার অপরাধের ফাঁসি হবে। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে জেল কর্তৃপক্ষ।
দেড়শ বছর আগে এই ঘর তৈরি হয়েছিল। তবে কোনদিন সেখানে ফাঁসি হয়নি। শবনামের ফাঁসির দড়ি আনা হবে বিহারের বক্সার থেকে।
কিন্তু কেন শবনমের চরম শাস্তি? উত্তরপ্রদেশের হাসান পুরের বাসিন্দা শবনাম গ্রামের এক শিক্ষকের একমাত্র মেয়ে। অবস্থাপন্ন পরিবারের মেয়ে শবনাম ইংরেজি ও ভূগোলে এমএ পাস করেছিলেন। সেলিম নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে সে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। সেলিম ক্লাস ফাইভ পাশ দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। ফলে শবনামের সঙ্গে সেলিমের সম্পর্ক বাড়ির লোক মেনে নেয়নি। সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার কারণে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে বাবা-মা ১০ মাসের ভাইপো সমেত পরিবারের ৭ জনকে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছিল শবনাম। পরিবারের সদস্যদের শরীর ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল তারা দুজনে।

