রাজেন রায়, কলকাতা, ২৪ আগস্ট: এবার পুর অফিসার ও পুর কর্মীদের ‘ওভারটাইম-ইনসেনটিভ’ বন্ধ হতে চলেছে কলকাতা পুরসভায়। শুধু তাই নয়, অবসরের পরেও যে সমস্ত অফিসার বা কর্মীরা ‘অপরিহার্য’র অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে মোটা টাকা বেতন নিচ্ছেন তাঁদের অধিকাংশকে ‘বিদায়’ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে কলকাতা পুরভবনে বলে জানা গিয়েছে। বস্তুত এই কারণে এবার পুর কমিশনারকে ‘প্রাইস ওয়াটার’ ধাঁচের আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য প্রশাসক ও পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, ওই সংস্থা পুরসভার সমস্ত বিভাগের অফিসার ও কর্মীদের এইচআরএ (হিউম্যান রিসোর্স অ্যাকাউন্ট) সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি সংগ্রহ করবে। এরপর পরবর্তী আর্থিক বছর শুরুর আগেই কোন বিভাগে কত অতিরিক্ত অফিসার ও কর্মী আছেন তা যেমন চিহ্নিত করবে, তেমনই কেন পুরসভা ‘ওভারটাইম-ইনসেনটিভ’ দিতে বাধ্য হচ্ছে তাও জানিয়ে দেবে ওই সংস্থা বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী ২০ হাজার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। মাত্র তিনদিন আগেই ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করার পাশাপাশি বেশ কয়েক মাস ধরে পুরসভার ঠিকাদারদের পাওনা মেটাতে পারছেন না পুরকর্তারা বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, করোনাকালে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অফিসার ও কর্মী নিয়ে পুরসভার পরিষেবা দেওয়া হয়েছে, নানা বিভাগে যদিও অতিরিক্ত অফিসার ও কর্মী রয়েছেন। আবার অনেক দফতরে চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর্মী রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার নানা বিভাগ ও দফতরে ‘ওভারটাইম-ইনসেনটিভ’ চালু রয়েছে। পুরঅফিসার ও কর্মীদের যোগসাজশে এই ওভারটাইম ও ইন্সেটিভ খাতে প্রতিমাসে পুরসভার কোষাগার থেকে কয়েক কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম এই বিষয়ে জানান, ‘পুরকর্মীরা কেন আট ঘণ্টার মধ্যে নিজের কাজ শেষ করতে পারছেন না? অফিসারদের কাজে ও সমন্বয়ে কোথায় ঘাটতি থাকছে? পুরপরিষেবায় আরও গতি বৃদ্ধিতে ওভারটাইমের কি আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে? পরামর্শদাতা সংস্থা এসবই পুনঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে।’

