আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৮ মার্চ: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা শেষেই মঞ্চে আগুন। দমকল কর্মীরা কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে শর্ট সার্কিটের ফলেই আগুন ধরেছে।
শনিবার বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম সতীপীঠ ফুল্লারা মন্দির সংলগ্ন মাঠে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জনসভার আয়োজন করা হয়। প্রধান বক্তা ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রার্থী অভিজিৎ সিং ওরফে রানা, কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল, বোলপুরের প্রার্থী ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, রামপুরহাটের প্রার্থী ও বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, কোর কমিটির সদস্য বিকাশ রায়চৌধুরী, সুদীপ্ত ঘোষ এবং রবি মুর্মু। বীরভূমের দুবরাজপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার মতোই এই সভাতেও বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ফাইজুল হক ওরফে কাজল শেখ অনুপস্থিত ছিলেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই আগুন লেগে যায়। মঞ্চের এক কোণে আগুনের শিখা দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যায়, যা দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্মীরা কালবিলম্ব না করে জল ও নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।ঘটনাটি ঘটার সময়, বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার সূর্য প্রতাপ যাদব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন।
দমকল কর্মীদের দাবি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত। যখন আগুন লাগে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লাভপুর ফুল্লারা মন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর হেলিকপ্টারটি মঞ্চ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই রাখা ছিল। যদিও কোনো বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি, তবুও জনসভার মঞ্চে আগুন লাগার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দমকল কর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেন এবং নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বোলপুর দমকল কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌরভ মণ্ডল বলেন, “মঞ্চে আগুনের শিখা দেখা গিয়েছিল। আমরা কাছেই ছিলাম এবং দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

