আমাদের ভারত, ১৪ আগস্ট: দেশের দৈনিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও একাধিক রাজ্যে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্র সরকার। করোনার তৃতীয় ঢেউ যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে। তাই আগে থেকেই কেন্দ্রের তরফে কোভিড তহবিল থেকে দ্বিতীয় দফায় রাজ্যগুলিকে টাকা দেওয়া শুরু হয়ে গেল। তৃতীয় ঢেউয়ের প্রস্তুতিতে শুক্রবার কেন্দ্রের তরফে “ইন্ডিয়া কোভিড-১৯ এমার্জেন্সি রেসপন্স এন্ড হেলথ সিস্টেম প্রিপিয়ার্ডনেস” প্যাকেজের দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হল। বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামীণ ও জেলা স্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নতির জন্য কেন্দ্রের তরফে এই টাকা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার টাকা গত ২২ জুলাই থেকে দেওয়া শুরু করা হয়। বাজেটে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে ২৩ হাজার কোটি টাকা খরচের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মধ্যে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৮২৭.৮০ কোটি টাকা গত ২২ জুলাই রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়। এই তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩৫% দেওয়া হয় শুক্রবার। সব মিলিয়ে রাজ্যগুলিকে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি অনুদান দেওয়া হল।
করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করার কাজ করা হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তার থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার কেন্দ্র ও রাজ্য একজোট হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক স্বাস্থ্য আধিকারিক। রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা এবং করোনা মোকাবিলার বিস্তারিত পরিকল্পনা কেন্দ্রের কাছে জমা দিতে। কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলিকে তহবিল থেকে যা অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে সেই তথ্যও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্র ৬০ ভাগ ও রাজ্য ৪০ ভাগ অর্থ খরচ করে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে ৯০% খরচ করবে কেন্দ্র। মাত্র ১০ শতাংশ খরচ করবে রাজ্যগুলি।
প্রতিটি রাজ্যের তরফে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করতে কি কি প্রয়োজন তার তালিকা যাচাই করে অর্থ সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের কাজ কতটা এগোচ্ছে সে বিষয়ে কেন্দ্র রাজ্য যৌথভাবেই নজরদারি চালাবে। তৃতীয় ঢেউ যদি আসে তাহলে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্র সমন্বয় যাতে বজায় থাকে সে বিষয়টিও বাদল অধিবেশন উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো তৃতীয় ঢেউতে যাতে অক্সিজেন এবং বেডের সংকট তৈরি না হয় তার জন্য কেন্দ্রের তরফে নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ ও জেলা স্তরে।

