সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২ আগস্ট: অবশেষে ঐতিহাসিক শহর বিষ্ণুপুরে প্রবেশ কর প্রত্যাহাত হলো। বিষ্ণুপুর শহরের উন্নয়নের স্বার্থে পুরসভা পর্যটক সহ সমস্ত রকমের গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর ধার্য্য করেন। এনিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বাঁকুড়ার মন্দির শহর বিষ্ণুপুর অপেক্ষা করে থাকে দেশ বিদেশের ঐতিহাসিক, গবেষক ও ভ্রমণবিলাসীদের জন্য। সেই বিষ্ণুপুরে ঢুকতে হলে বহিরাগত গাড়ির জন্য প্রবেশ করের কথা ঘোষণা করে বিষ্ণুপুর পুরসভা। সেই বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হওয়ার পর বিতর্ক তৈরি হয় শহরজুড়ে। তারপরই যাত্রীবাহী গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রে প্রবেশ কর লাগবে না বলে সোমবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। তবে পুরসভার সিদ্ধান্তের কিছুটা বহাল রইল পন্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে, অর্থাৎ পন্যবাহী গাড়ি বিষ্ণুপুরে প্রবেশ করলেই কর গুনতে হবে এই শহরে গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রে। বিষ্ণুপুরের উন্নয়নের স্বার্থে ওই কর থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে। গত মাসে বিষ্ণুপুর পৌরসভা একটি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, ১ অগাস্ট থেকে মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে গেলে গুণতে হবে পকেটের পয়সা। বাইরে থেকে আসা সব ধরনের গাড়িকেই দিতে হবে প্রবেশ কর। তবে ছাড় থাকছে বিষ্ণুপুরের বাসিন্দাদের গাড়িসহ রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সে। পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেও এই মাশুল দিতে হবে। গাড়ি থেকে আদায় করা মাশুল খরচ করা হবে বিষ্ণুপুরের উন্নয়নের স্বার্থে।

পুরসভার এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিভিন্ন মহল থেকে বিষ্ণুপুরে প্রবেশ কর বসানোয় আপত্তি উঠতে থাকে। প্রশ্ন ওঠে মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হয় সেখানে আগে প্রবেশ কর দিতে হলেও পরে মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবেশ কর তুলে দেন। সেখানে বিষ্ণুপুরের মতো জায়গায় কেন প্রবেশ কর বসানো হবে? এই করের জন্য বিষ্ণুপুরের পর্যটন শিল্পে ভাটা পড়বে বলেই মত দেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ছোট ব্যবসায়ীদের। পুজোর পর থেকেই পর্যটকদের ভিড় জমতে থাকে বিষ্ণুপুরে। মল্লরাজ আমলের স্থাপত্য ও টেরাকোটার মন্দির দেখার পাশাপাশি বিষ্ণুপুরকে কেন্দ্র করে মানুষ মুকুটমণিপুর, শুশুনিয়া, জয়রামবাটি, কামারপুকুর প্রভৃতি পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্র ভ্রমণ করেন। তাই যতবার সেসব জায়গা ঘুরে ফের বিষ্ণুপুরে ফেরত আসবেন ততবারই গাড়ি প্রতি কর গুণতে হবে। সেই পয়সা বাঁচানোর জন্যই মানুষ বিষ্ণুপুরে থাকার পরিবর্তে বাঁকুড়া বা জয়পুরে থাকাটাই সুবিধা বলে মনে করবেন। আর তাতেই মার খাবে বিষ্ণুপুরের হস্তশিল্প থেকে টেরাকোটা সামগ্রী বিক্রেতারা। তাই এই করের বিরোধিতা করে সব মহল। মানুষের সেই ক্ষোভের আঁচ টের পেয়েই এবার পর্যটক সহ সব ধরনের ছোট গাড়ির জন্য প্রবেশ কর লাগু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
এই বিষয়ে বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, ‘বিষ্ণুপুরের উন্নয়নের স্বার্থে পৌরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরে গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রে কর বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে স্থানীয় মানুষ প্রবল আপত্তি তোলায় পর্যটক সহ ছোট গাড়ির প্রবেশ কর নেওয়া বন্ধ রাখা হলো। তবে পণ্যবাহী গাড়িগুলি শহরে ঢুকতে গেলে প্রবেশ কর দিতে হবে। আমি পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেই এই কথা ঘোষণা করেছি’। মন্দির নগরীতে ঢোকার ক্ষেত্রে ছোট গাড়ির প্রবেশ কর মুলতুবি রাখার কথায় খুশি বিষ্ণুপুরবাসী।

