আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১০ নভেম্বর:
তৃণমূলের মধ্যে অন্তঃকলহের কারণেই গোসাবা বিধানসভার অন্তর্গত গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন স্থগিত ছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বেশ কয়েকমাস কেটে গেলেও প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত করা সম্ভব হয়নি গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতে। অবশেষে শুক্রবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের কঠোর নিরপত্তার মধ্যে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হলেন। প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তাপস বিশ্বাস ও উপপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন নিভা গিরি জানা।
গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৮টি আসন। এরমধ্যে গত পঞ্চায়েত ভোটে একটি আসন বিজেপি পায়, চারটি নির্দল ও তেরোটি আসন পায় তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূল সংখ্যা গরিষ্ঠ থাকলেও নির্দল প্রার্থীরা প্রধান হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। দলের টিকিট না পেয়েই তাঁরা নির্দলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন বিজেপিকে ঠেকাতে এই দাবিতে তাঁরাও প্রধান, উপপ্রধানের দৌড়ে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে গোসাবার প্রাক্তন প্রধান তথা নির্দল প্রার্থী বিকাশ নস্কর ও গোসবার বর্তমান অঞ্চল সভাপতি কৈলাশ বিশ্বাস দুজনের দুই গোষ্ঠী তৈরি হয়। কৈলাশের দাবি ছিল, দলীয় প্রার্থীরা সংখ্যা গরিষ্ঠ যখন রয়েছেন, তখন কোনভাবেই নির্দল প্রার্থীদের প্রধান করা যাবে না, এতে দলের মুখ নষ্ট হবে।
অন্যদিকে বিকাশ ও তাঁর অনুগামীরা প্রধান, উপপ্রধান নির্বাচন করার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। বোর্ড গঠনে অশান্তি হতে পারে আশঙ্কায় এই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন স্থগিত রাখে প্রশাসন। অবশেষে শুক্রবার হাইকোর্টের নির্দেশে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বোর্ড গঠন হল। কৈলাস অনুগামীরাই প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হন।
কৈলাস বলেন, “দলের সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও নির্দল, বিজেপিরা বোর্ড গঠন করবে সেটা মানতে পারিনি, দলকে জানিয়েছিলাম, দলের নির্দেশেই আজ প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হয়েছে।”
অন্যদিকে বিকাশ অনুগামী সঞ্জীব মণ্ডল বলেন,
“আমাদের সাতজন সদস্যকে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। আমরা আবারও হাইকোর্টের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানাবো এই বোর্ড গঠন পুনরায় করার জন্য।”
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই দাবি করেছেন গোসাবা ব্লক তৃণমূলের নেতৃত্ব।

