সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ জুন: থ্যলাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই চালিয়েও মাধ্যমিকে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো কোয়েল কাইতি।পরীক্ষা চলাকালীনও তাকে রক্ত নিতে হয়েছে, তবুও দমেনি সে, অদম্য মনোবলের জোরে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় সে সফল। তার এই সাফল্যে খুশী বাবা মা সহ পাড়া প্রতিবেশীরা।
বাঁকুড়া শহরের কমরার মাঠে বাস কোয়েলের। বাবা শান্তি কাইতির গ্যাস ওভেন রিপেয়ারিংয়ের দোকান রয়েছে লালবাজারে। একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার।পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পরই তার থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে।আড়াই বছর বয়স থেকেই রক্ত নিতে হয় তাকে। তার এই শারীরিক অবস্হায় বাবা মায়ের চিন্তার শেষ নেই, কিন্তু কোয়েলের মনোবল অদম্য। অসুস্হ শরীর নিয়ে সে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাঁকুড়া টাউন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী কোয়েল এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ৫৪৯নম্বর, সঙ্গে চারটি বিষয়ে লেটার। বাংলায় ৮০, ইংরেজিতে ৮৫, অঙ্কে ৮০, জীবন বিজ্ঞানে ৯১ নম্বর তার ঝুলিতে।
কোয়েলের এই সাফল্যে খুশী ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি।স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের ব্যবস্হাপনায় নিয়মিত রক্ত পেয়ে আসছে সে।তার এই সাফল্যে খুশী চেপে রাখতে পারেননি সংস্থার সদস্যরা। আজ তারা অভিনন্দন জানাতে হাজির হন তার বাড়িতে।ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সম্পাদক বিপ্রদাস মিদ্যা বলেন, ওর সাফল্যে সোসাইটির সবাই আনন্দিত। কোয়েল জানায়, সে বড় হয়ে ইংরেজীর শিক্ষিকা হতে চায়। এবার সেই চেষ্টায় সে চালিয়ে যাবে।

