আমাদের ভারত, ১২ অক্টোবর: করোনার কারণে দেশে আর্থিক অগ্রগতি প্রায় থমকে গেছে। এই আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র সরকার। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য ঠিকঠাক জায়গায় নেই। তাই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন এবার বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। আর সেই জন্যেই উৎসবের মরসুমে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একাধিক সুখবর দিয়েছেন তিনি।
বিভিন্ন সংস্থা থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে বাজারে সেভাবে চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। কারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা না থাকলে, বেড়াতে যাওয়া বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া বা সৌখিন জিনিস কেনার প্রশ্ন ওঠেনা। তাই বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, বাজারের যোগান আগের থেকে বেড়েছে। দীর্ঘদিন লকডাউন এর কারণে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন কনজিউমার ডিমান্ড বাড়াতেই হবে। আর তাই আমরা বাজারে চাহিদা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছি। দেশে জিডিপি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কনজিউমার ডিমান্ড একটি বড় ভূমিকা নেয়। বাজারে নগদ এর চাহিদা বাড়ানোর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থমন্ত্রী এদিন উৎসবের মরসুমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এলটিসি ক্যাশ ভাউচার স্কিম,স্পেশাল ফেস্টিবল অ্যাডভান্স স্কিম চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন সরকারি কর্মীদের হাতে নগদের যোগান থাকলে বাজারে চাহিদা তৈরি হবে। তার ফলে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে মে মাসে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক অগ্রগতির চাকা সচল রাখতে কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।সেই প্যাকেজ কিভাবে খরচ হবে তার একে একে রূপরেখা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। যদিও সে প্যাকেজ নিয়ে বিরোধীরা অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন।তাদের বক্তব্য ছিল যে মানুষ চাকরি হারিয়েছে তারা নতুন করে লোন নেওয়ার কথা কখনোই ভাববেন না। সেক্ষেত্রে যোগান নির্ভর প্যাকেজ দিয়ে কোন লাভ নেই। বাজারে যাতে চাহিদা তৈরি হয় তার জন্য দেশবাসীর অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ দেওয়ার কথা তারা বলেছিলেন।

