সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২২ ফেব্রুয়ারি: বাঁকুড়া শহরের পাটপুর পাওয়ার হাউস সংলগ্ন এলাকার রেল গেট তুলে দেওয়ার আশঙ্কায় আন্দোলনে নেমেছেন এলাকার মানুষ। আজ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা। শুরু করেছেন গণস্বাক্ষর। তাদের দাবি, রেলগেট তুলে দিলে তারা জনস্বার্থ মামলা করা থেকে লাইন অবরোধ করে রাজধানী সহ সব ট্রেন আটকে বিক্ষোভ দেখাবেন বলে হুমকিও দেন।
বাঁকুড়া শহরের অতি প্রাচীন এলাকা পাটপুর। যুগের পর যুগ ধরে এখানে রেলওয়ের একটি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এই ক্রসিং বা রেলগেট পার হয়ে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এই রেলগেট পার হয়েই সহজে শহরের আসা যাওয়া করা যায়। এখন রেল দপ্তর এই রেলগেট বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটছেন। আর, এতেই ঘুম ছুটেছে এলাকার বাসিন্দাদের। তাই, এবার এই রেল গেট বন্ধ হওয়া ঠেকাতে তারা জোট বেধে আন্দোলনে নামলেন৷ গণ স্বাক্ষরিত আবেদন সোমবার জেলাশাসক থেকে শুরু করে রেলের অধিকারদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা৷ তাতেও রেলের টনক না নড়লে, জনস্বার্থে হাইকোর্টে মামলা থেকে রাজধানী আটকে বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, এই রেলগেট পার হয়েই রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তরের আফিস রয়েছে৷ যা পাওয়ার হাউস নামে অতি পরিচিত৷ এই অফিসে যাতায়াতে আমজনতার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ দপ্তরের মতো আপৎ কালীন পরিষেবা প্রদানকারী দপ্তরও সমস্যায় পড়বে। ফলে, শহরের হাজার হাজার বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে উঠবে৷ বিদ্যুৎ দপ্তর ২০২৪ সাল থেকে চিঠি দিলেও রেল কোনো সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ক্ষুব্ধ বিদুৎ দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরাও। তারাও চান এই রেলগেট চালু থাক।
অন্যদিকে রেল দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, দপ্তর ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব রেলগেট তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে৷ উদ্দেশ্য রেলের গতি বাড়ানো এবং রেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো। তাই ওভার ব্রিজ, আন্ডার পাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে দপ্তর। এখন সারা দেশ জুড়েই বেশ কিছু লেভেল ক্রসিং’কে মার্চ করে লিঙ্ক রোডের মাধ্যমে যুক্ত করে একটি ক্রসিং রেখে বাকি গুলি বন্ধ করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেল। মনে করা হচ্ছে পাটপুর রেল গেট বন্ধ করে লিঙ্ক রোড দিয়ে যুক্ত করে ভৈরবস্থান আন্ডার পাসের সাথে একত্রীকরণের পরিকল্পনা আছে রেলের। এমনকি তারা বিকল্প রিং রোড তৈরির কাজও সেরে ফেলেছে। তাই পাটপুর রেলগেট চিরতরে বন্ধ করে দেবে রেল এমনটাই আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, শহরের সাথে যোগাযোগের সহজ উপায় ধাক্কা খাবে। প্রায় দেড় থেকে দুই কিমি ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে এলাকার লোকজনদের। এই কারণে, এই রেল গেট বন্ধ ঠেকাতে আন্দোলন আরো জোরদার করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।

