জনরোষের আশঙ্কা! মানবাজারে বারি-জাগদা পঞ্চায়েতের প্রধান সহ ১১ জন সদস্যের ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৬ ডিসেম্বর: এবার পুরুলিয়া জেলার মানবাজার ২ ব্লকের বারি জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ ১১ জন সদস্যই ইস্তফা দিচ্ছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বিডিওর কাছে ইস্তফা দিতে চলেছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সমস্যায় জেরবার তৃণমূল পরিচালিত বিভিন্ন পঞ্চায়েত। পুরুলিয়ার মানবাজারের ২ ব্লকের বারি-জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতও ব্যাতিক্রম থাকল না। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ২ ব্লকের মালিহাটি কান্দ্রা গ্রাম পঞ্চায়েতের পর একই পথে হাঁটছেন তৃণমূল পরিচালিত মানবাজার ২ ব্লকের বারি জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। আবাস যোজনার সমস্যায় জেরবার বারি-জাগদা গ্রাম পঞ্চায়েত।

পঞ্চায়েত প্রধান অনিমেষ মাহাতো বলেন, “চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবাস প্লাস যোজনার ৭৬৮ জনের মধ্যে ৫০৮ জন যোগ্য এবং ২৬০ জন অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়। আবার ১৫ ডিসেম্বর সেই তালিকা নিয়ে যখন গ্রাম সভায় উপস্থাপন করি তখন দেখা গিয়েছে ৫০৮ জনের মধ্যে ফের ৪১ জন অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। সব পঞ্চায়েত সদস্য বিষয়টি নিয়ে বিডিওর কাছে আলোচনা করি। কিন্তু বিডিওর যুক্তিতে আমরা সতুষ্ট না হওয়ায় ফের ১১ জন সদস্য আলোচনায় বসি। আলোচনায় মঙ্গলবার পঞ্চায়েত সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেবার সিদ্ধান্ত নিই।”

ওই পঞ্চায়েতের বিরোধী দলের সদস্য পরান মাহাতো বলেন, “বর্তমানে দেখা গিয়েছে ওই যোগ্য তালিকাতেই আরও অযোগ্য নাম রয়েছে। তা ছাড়া বহু যোগ্য মানুষ এই তালিকা ভুক্ত নেই। এই পরিস্থিতিতে আমরা অস্বস্তিতে পড়ি। তাই সম্মিলিতভাবে পঞ্চায়েত প্রধান সহ শাসক বিরোধী উভয় দলের ১১ জন সদস্য আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার মানবাজার বিডিওর কাছে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করি।”

মোট ১১ আসন বিশিষ্ট ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬ জন তৃণমূল, ৪ জন নির্দল এবং ১ জন সিপিআইএম সদস্য রয়েছেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল ।

দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় বর্তমানে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতিকে রীতিমতো জোর টেক্কা দিচ্ছে আবাস দুর্নীতি। দিন দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে দুর্নীতির পরিমাণ। গত এক মাস থেকে বাংলার মাটিতে প্রকাশ্যে এসেছে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ। ন্যায্য প্রাপকরা নিজেদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে নেমেছে পথে, কেউ বা সামিল হয়েছে বিক্ষোভে, কেউ বা আবার ক্ষোভে বয়কট করেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এরই মধ্যে এবার স্থানীয় মানুষের জনরোষের আশঙ্কায় গণ ইস্তাফা দিচ্ছেন তাঁরা। বারি জাগদা পঞ্চায়েতের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে গোটা এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *