জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৬ নভেম্বর: শস্যগোলায় অগাধ খাদ্য ভান্ডার। তার ওপর শস্য ভরা মাঠের পাশে জঙ্গল। যা অনুকুল পরিবেশ। তার ওপর সঙ্গে একাধিক ছোট বাচ্চা। হুল্লা পার্টির তাড়ায় দৌঁড়াতে অপারগ দাঁতাল থেকে কুনকি হাতি। আর তাতেই আউশগ্রাম থেকে হাতির দল বাঁকুড়ার জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে নাজেহাল অবস্থা হয়ে উঠেছে বনকর্মীদের।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের পাত্রসায়রের জঙ্গলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ৮০ টি বুনো হাতির দল। রীতিমতো আতঙ্কিত জঙ্গল লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকার গ্রামবাসীরা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাঠের পাকা ধান সহ শীতকালীন ফসল। সম্প্রতি একটি হাতির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাত্রসায়ের রেঞ্জের ময়রাপুকুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। পরে ওই হাতির দল তিন ভাগ হয়ে যায়। গত ১০ নভেম্বর পাত্রসায়ের রেঞ্জের নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের মুড়াপাড়া ও সোনামুখি রেঞ্জের হামিরহাটি অঞ্চলে বিঘার পর বিঘা জমির ধান সহ ফুল ও বাঁধা কপির জমি নষ্ট করে ১৮টি হাতির একটি দলটি।

অন্যদিকে ওইদিন রাতেই প্রায় ৫০ টি হাতির দল দামোদর নদ পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসি ও আউশগ্রাম এলাকার ধান ক্ষেতে তাণ্ডব করে। গলসির শিড়রাই গ্রামে হাতির আক্রমণে এক গ্রামবাসী জখম হয়েছে বলে অভিযোগ। গলসির শিড়রাই, রামগোপালপুর, পোতনা, পুরষা, উচ্চগ্রাম সহ একাধিক এলাকায় হাতির তান্ডবে পাকা ধানে মই দেওয়া হয়েছে বলে দাবী চাষীদের। প্রায় ২৫০ হেক্টরের বেশী জমির ধান নষ্ট হয়েছে হাতির পায়ে।
যদিও ওইদিন রাত থেকে বনকর্মীরা নজরদারি রেখেছিল হাতির দলটিকে। খবর পেয়ে ভোর থেকে সুরক্ষা দিতে হাজির গলসি থানায় পুলিশ।

এদিন সকালে হাতির দলটি আউশগ্রামের নওয়াদা ও বিল্বগ্রাম এলাকায় ঢুকতেই ঘটে বিপত্তি। খবর পেয়ে বনকর্মী, হুল্লা পাটির দল পৌঁছায়। কিন্তু হাতির দলটি বাঁকুড়ার জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলেও কার্যত নাজেহাল বনকর্মীরা। গত ৬ দিনে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, সারেঙ্গা, বেলিয়াতোড়, জয়পুর সহ বেশ কিছু রেঞ্জের দক্ষ হুল্লা পার্টিও ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে হাতি তাড়াতে প্রায় দেড়’শ জনের হুল্লা পার্টির দল কাজ করছে। তার সঙ্গে দক্ষ বনকর্মী থেকে আধিকারিকরা রয়েছেন। কিন্তু তারপর হাতির দল ফেরত পাঠাতে নাভিশ্বাস দশা বনকর্মীদের। প্রশ্ন, হাতির দল ফেরত পাঠাতে নাকাল কেন?
প্রসঙ্গত, আউশগ্রাম ব্লকের একাংশ ঘন জঙ্গল। তার সঙ্গে শস্য ভরা মাঠ। পাকা ধান, যা হাতির মুখোরোচক খাবার। তার সঙ্গে শীতকালিন সবজি। সব মিলিয়ে অগাধ খাদ্য ভান্ডার পেয়েছে হাতির দল। এছাড়াও হাতি সঙ্ঘবদ্ধ প্রাণী। একসঙ্গে ঘোরাফেরা করে। দলের মধ্যে ৬-৭ টি বচ্চা হাতি রয়েছে। যার মধ্যে ১ টির বয়স প্রায় ১৫ দিন। বাচ্চা হাতিরা বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াতে পারছে না। একইসঙ্গে সন্তানদের ছেড়ে কোনভাবে এগিয়ে যেতে অপারগ দাঁতাল ও কুনকি হাতি। হুল্লা পার্টি মশাল নিয়ে তাড়া করলেও হাতির দল তাদের সঙ্ঘবদ্ধভাবেই চলেছে। একই সঙ্গে, হাতের তান্ডবে ধান নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জমির পাকা ধান বাঁচাতে মরিয়া। আর তাই কাতারে কাতারে মানুষ যেকোনও ভাবে হাতি তাড়াতে মাঠে নেমে পড়েছে। ফলে জনতার চিৎকারে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়ছে হাতির দল। কখনও পিছন ফিরে গ্রামবাসীদের তাড়া করছে। মঙ্গলবার আউশগ্রামের প্রতাপপুর গ্রামের কাছে দুভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। ফলে হাতি তাড়াতে আরও বিপাকে পড়ে বনকর্মীরা।
পূর্ব বর্ধমান আঞ্চলিক বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, “প্রায় ৪৯ টি হাতি রয়েছে দলে। তার মধ্যে ৬-৭ টি বাচ্চা রয়েছে। অগাধ খাদ্য ভান্ডার অনুকুল পরিবেশ। পাশাপাশি বাচ্চাদের ছাড়া হাতি কোনভাবে এগিয়ে যাবে না। একসঙ্গে দলবদ্ধ ভাবে চলে। তাতে অভিযানে সমস্যা হচ্ছে। তবে হুল্লা পার্টি আরও আনা হয়েছে। অভিযান চলছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।”

