সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২ জানুয়ারি: নিজের মেয়েকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তায় ভরে জঙ্গলের ভেতর কুয়োয় ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা। পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করে আজ বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করে। বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটা করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরেও মেয়ে স্বামীর ঘর করেননি। বাপের বাড়ি ঘর দখল করে বাস করছিল। মেয়েকে বুঝিয়েও শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে পারেননি বাবা। অবশেষে সেই ঘর খালি করতে মেয়েকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তায় ভরে জঙ্গলের ভেতর কুয়োয় ফেলে দেয়। ওন্দার দিগশুলির জঙ্গলের ভেতর থেকে ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় থানার পুলিশ। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করে মৃতার বাবাকে।
পুলিশ ও পড়শি সূত্রে জানা গেছে যে, বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা ভবানী মালের বছর দুই আগে বিয়ে হয় বিকনা গ্রামে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের মাস তিনেকের মধ্যে বাপের বাড়িতে ফিরে আসে ভবানী। বাপের বাড়ির দুটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর দখল করে বসবাস শুরু করে। ভবানী ছিল প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে। অন্যদিকে অপর ঘরে চার সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন ভবানীর বাবা ঈশান মাল। এনিয়ে মনমালিন্য লেগেই ছিল। শ্যামপুরের পার্শ্ববর্তী হেলনা শুশুনিয়া গ্রামে পরিচারিকার কাজ করে নিজের একার সংসার চালাত বছর বাইশের ভবানী। গত ১৪ ডিসেম্বর আচমকাই নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ভবানী। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৩ দিন পর বাঁকুড়া সদর থানায় মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন ভবানীর বাবা ঈশান।
এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় মানুষ পার্শ্ববর্তী ওন্দা থানার দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে গিয়ে পচা গন্ধ পেয়ে দেখেন একটি কুয়োর মধ্যে বস্তা ভাসতে। তারা ওন্দা থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ কুয়ো থেকে ওই বস্তা তুলে বস্তার ভেতর থেকে ভবানী মালের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। ওন্দা থানার পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানতে পারে এই খুনের মূল চক্রী মৃতার বাবা। পুলিশ জানতে পারে, মেয়ে একটি ঘর একা দখল করে থাকায় অন্য ছোট ঘরটিতে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও চার ছেলে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতে সমস্যা হচ্ছিল বাবা ঈশানের। ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার কথা মেয়েকে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু মেয়ে ঘর না ছাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় বাবা। মেয়েকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তাবন্দি করে জঙ্গলের মধ্যে কুয়োতে ফেলে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার গল্প রটিয়ে দেয়। তাকে গ্রেফতার করে আজ বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। মেয়েকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর ঈশান বলেন, ইট দিয়ে মেয়েকে মেরেছেন। তবে মেয়েকে মারতে কেউ তাকে প্ররোচনা দেননি বলে জানান ধৃত ব্যক্তি।

