আমাদের ভারত, হাওড়া, ১১ সেপ্টেম্বর: শ্যামপুরের মরশাল গ্রামে ১৫ দিনের শিশু কন্যা আরাধ্যা মাঝির মৃত্যুর ঘটনার ১৮ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামপুর থানার পুলিশ মৃত শিশুর বাবা সায়ক মাঝিকে গ্রেফতার করল।ধৃতকে শুক্রবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
সূত্রের খবর, ছোট্ট শিশু আরাধ্যা মাঝির রহস্য মৃত্যুর পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল পুলিশ। এমনকি কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিয়েও ধন্দে ছিল পুলিশ। যদিও পুলিশ তদন্তে নেমে একাধিক পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে একপ্রকার নিশ্চিত হয় ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা জড়িত। এছাড়াও মৃত শিশুর বাবা সায়ক মাঝি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।

যদিও এদিন আদালতে আসার সময় সায়ক নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। তার বক্তব্য, ঘটনার দিন রাত ২ টো পর্যন্ত মেয়েকে কোলে নিয়ে জেগে বসেছিলাম। পরে মেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে আমিও ঘুমিয়ে পড়ি। যদিও পরে স্ত্রীর চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে। পরের দিন স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেয় মেয়ের মৃতদেহ পুকুরে ভাসছে। তার দাবি, রাতে দরজা ভেজানো ছিল এমনকি লোহার গ্রিলের গেটের তালা দেওয়া ছিল না সেই সুযোগে কেউ বাড়িতে ঢুকে মেয়েকে চুরি করে নিয়ে তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য এই কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাতে বাবা মায়ের কাছ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় আরাধ্যা মাঝি। রাতে চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ার পর পরেরদিন ভোরবেলা তার মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশে খবর দিলে শ্যামপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠায়।

